রেললাইনে প্রাণ গেল রাবণবধে মত্ত অর্ধশত মানুষেরভারতের পাঞ্জাবে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

অমৃতসরের যোধা ফটকের কাছে ধোবি ঘাটে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় রেললাইনের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হতাহতরা সবাই রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে ‘দশেরা’ উৎসব দেখছিলেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

এ উৎসবে দশ মাথাওয়ালা অসুররাজ রাবণের বিরুদ্ধে হিন্দু অবতার রামের বিজয় উদযাপিত হয়।

রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রেল লাইনের কাছেই রাবণমূর্তি পোড়ানোর পর তা দেখতে উৎসুক জনতা লাইনের ওপর উঠে এসেছিল। পটকা পোড়ানোর আওয়াজে ট্রেন আসার শব্দও শোনেনি তারা।

“ফটক থেকে ৭০-৮০ মিটার দূরে রাবণের প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়, মূর্তিটি যখন পড়ে যায় লোকজন দৌড়ে রেললাইনের উপর চলে আসে, ঠিক সে সময়ই ট্রেনটা ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল, সেখানকার লেভেল ক্রসিংও বন্ধ ছিল,” বলেন ওই কর্মকর্তা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাওয়া ভিডিওতে দ্রুতগামী একটি ট্রেনকে ভিড়ের মধ্যে দিয়ে এগোতে দেখা গেছে।

এনডিটিভি জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওই ঘটনা ঘটে। ঘাতক ট্রেনটি জলন্ধর থেকে অমৃতসর যাচ্ছিল।

দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই আয়োজকরা উৎসুক দর্শকদের রেললাইন থেকে সরানোর চেষ্টা করছিলেন বলে স্থানীয় এক সাংবাদিক জানিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ হিসেবে বর্ণনা করে শোকপ্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ ও কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধীও।

ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে শোক ঘোষণা করেছে পাঞ্জাব সরকার। শনিবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিবারগুলোকে ৫ লাখ রুপি করে দেওয়ারও ঘোষণা এসেছে; সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও বহন করবে রাজ্য সরকার।

রক্ত দিতে আগ্রহীদের অমৃতসরের সিভিল হাসপাতাল ও গুরু নানক হাসপাতালে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ৩২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার পরপরই ধোবি ঘাট দিয়ে যাতায়াত করা ট্রেনগুলো হয় বন্ধ রাখা হয়েছে, নতুবা অন্য পথে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ও পূর্ব অমৃতসরের সাংসদ ক্রিকেটার নভোজিৎ সিং সিধুর স্ত্রী ধোবি ঘাটের এই ‘দশেরা’ উৎসবের অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠান বাসায় ফেরার পরপরই দুর্ঘটনার কথা শুনতে পান বলেও জানিয়েছেন নভোজিৎ কৌর।

ঘটনার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেও দায়ী করেছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনার জন্য রেলওয়ে প্রশাসন ও ‘দশেরা’র আয়োজক কমিটিকে দুষছেন।

“দোষ প্রশাসন আর দশেরা কমিটির। তাদের অবশ্যই এটা নিশ্চিত করা উচিত ছিল যে ট্রেন হয় থামবে নতুবা ধীরে যাবে। দশেরার সময় যোধা ফটকের কাছে ট্রেনের গতি কম রাখতে রেলওয়ের সঙ্গে কথা বলতে অনেকবারই কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতাদের অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কেউই শোনেননি,” বলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।

দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য