11 21 18

বুধবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Home - আন্তর্জাতিক - আবারো সামরিক শক্তি অর্জনের পথে জার্মানি

আবারো সামরিক শক্তি অর্জনের পথে জার্মানি

আবারো সামরিক শক্তি অর্জনের পথে জার্মানিদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জার্মানি প্রতিরক্ষার জন্য প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো সামরিক জোটের ওপরই নির্ভর করেছে অনেকটা ইচ্ছায়, অনেকটা অনিচ্ছায়। কিন্তু সম্প্রতি ন্যাটো জোট নিয়ে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান অনীহার কারণে জার্মানি বহুদিন পর সামরিক খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ন্যাটো বাহিনীতে আরো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার

App DinajpurNews Gif

লিথুনিয়ার বেলারুশ সীমান্তে মোতায়েন ন্যাটো ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছে জার্মানি। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী চেহারা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছোটো এই সদস্য দেশকে আশ্বস্ত করতেই লিথুনিয়াতে ন্যাটো সৈন্য মোতায়েন করেছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উরসুলা ফন দের লেইন বলেন, প্রতিরক্ষা নিয়ে জার্মানির নীতিতে বদল হচ্ছে এবং লিথুনিয়ায় ন্যাটো বাহিনীর নেতৃত্ব তারই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। ‘আগে আমরা ভাবতাম, আমাদের ইতিহাসের কারণে আমরা প্রতিরক্ষা নিয়ে, সামরিক বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাবো না। কিন্তু এখন রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিধর একটি দেশ হিসেবে আমরা আর বসে থাকতে পারি না। আমরা এখন মনে করছি আমাদের ইতিহাসের কারণেই আমাদেরকে ভূমিকা নিতে হবে।’

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, দশকের পর দশক ধরে জার্মানি সামরিক খাতকে অবজ্ঞা করেছে। সৈন্য সংখ্যা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক অস্ত্র, সামরিক বাজেট- এসব বিষয় তাদের অগ্রাধিকারের অনেক নিচুতে ছিল। সুতরাং ন্যাটোতে নেতৃত্ব পর্যায়ে আসতে চাইলে তাদেরকে ক্ষমতা এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। সে কথাই বলছিলেন ওয়াশিংটনে গবেষণা সংস্থা ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক কনস্টানজ স্টেনজেমুলার।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নব্বই দশকের শেষ দিক থেকে জার্মান সেনাবাহিনী শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা শুরু করছে। তবে ন্যাটো জোটের অন্য অনেক সদস্য দেশের সমান্তরালে পৌঁছানোর তুলনায় আরো অনেক দূর যেতে হবে। তার জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট অনেক বাড়াতে হবে, চেষ্টা আরো অনেক জোরদার করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত দুই বছর ধরে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছেন। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের ঘটনা জার্মানির মনোভাব পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তার দুই বছর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ায় জার্মানির সেই মনোভাব আরও শক্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দের লেইন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার ঘটনার একটা প্রভাব তো রয়েছেই। সেটা ছিল একটা সতর্ক সঙ্কেত। কারণ ২০১৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি বলেছিলেন, ন্যাটো অকেজো একটি জোট। এ কথা শুনে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো শঙ্কিত হয়ে পড়ে। সে কারণেই আমরা তাড়াতাড়ি করে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ইউনিয়ন গঠন করি। সিদ্ধান্ত নিই, আমাদেরকে ইউরোপের প্রতিরক্ষায় আরও শক্ত ভূমিকা নিতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য