ঠাকুরগাঁওয়ে শীতকে লক্ষ্য করে লেপ-তোষক বানাতে ব্যস্ত কারিগররাদেখতে দেখতে চলে আসছে শীতের হাওয়া। আর শীত মানেই প্রশান্তির ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ঋতু। দিনে প্রচন্ড গরম আর ভোর রাতে শীত, বইতে শুরু করে হিমেল হাওয়া। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠে ঠান্ডা। সেভাবে শীতের শুরু না হলেও জলবায়ু পরিবর্তনে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। আর এই শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে হিড়িক পড়েছে লেপ-তোষক বানানোর কারিগরদের।

গতকাল মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, শহরের টেকনিকাল মোড়, কালিবাড়ী, বাসষ্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও রোড সহ বিভিন্ন জায়গার সামনে লেপ-তোষক বানাতে ব্যস্ত কারিগররা। দোকানের সামনে বসে একটার পর একটা লেপ-তোষক বানাতে ব্যস্ত কারিগররা।

লেপ-তোষক সেলাইকর্মী নূর আলম, জাহিদুল, রফিক নামে করিগররা বলেন, প্রতিদিন তারা লেপ সেলাই করে থাকেন। সাইজ অনুযায়ী প্রতিটি লেপে তারা মুজরি পান ১৫০থেকে ২০০ টাকা। আর সেলাইকর্মীরা সবাই একই নিয়মে মুজরি নিয়ে থাকেন। দিন শেষে ৫’শ থেকে ৮’শ টাকা রোজগার হয় তাদের। তা দিয়েই সংসার চালান তারা।

লেপ কিনতে আশা ক্রেতা জয়নাল জানান, দিনে গরম থাকলেও রাতে ঘুমানোর সময় শীত পড়ে। তাই বেশি শীত পরার আগেভাগেই শীতের জন্য লেপ বানিয়ে নিচ্ছি। গার্মেন্টের মালিক আব্দুল কাদের বলেন, এখনো ভালো করে শীত পরেনি। এর পরেও রাতে শীত করে। তাই লোকজন শীতবস্ত্রের প্রতি ঝুঁকছেন। প্রতিদিন আমার এখানে প্রায় ১০-১২টি লেপ-তোশকের অর্ডার হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, তুলা ও কাপড়ের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ বেশি হচ্ছে। যেমন- শিমুল তুলা প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কার্পাস তুলা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, গার্মেন্টস তৈরি কালো হুলু কালা পচা তুলা ২০ থেকে ৩০ টাকা, সাদা তুলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ক্রয় করি। এছাড়াও কাপড়ের গজ মান অনুযায়ী প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ভালো মানের একটি লেপ বানাতে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকার মতো খরচ আসে। একই মানের একটি তোষকেও খরচ আসে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য