জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়াইসরাইলের রাজধানী হিসেবে বিরোধপূর্ণ শহর জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা বিবেচনা করছে অস্ট্রেলিয়া। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরাইলে তাদের দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের চিন্তা করছে দেশটি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নিজেই এ বক্তব্য দিয়েছেন। তবে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে দুই রাষ্ট্র নীতির প্রতি তার অঙ্গীকারের ব্যক্ত করেন। খবর বিবিসির।

চলতি বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইসরাইলি দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করেছে। যা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে দেশটিকে। তবে দেশটির বিরোধীরা বলছে যে, গুরুত্বপূর্ণ একটি উপনির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ‘শঠতাপূর্ণ’ এই বক্তব্য দিয়েছেন।

মরিসন অবশ্য বলেছেন, এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কেবিনেট ও অন্য দেশগুলোর পরামর্শ নেবেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এবং পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে দেখতে চান। এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া খোলা মনে কাজ করছে।

মরিসনের বক্তব্যকে সমর্থন করে টুইট করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি লিখেছেন, আমি আজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি (মরিসন) আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি ও দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন। আমরা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালক্লম টার্নবুল জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের বিষয়টি খারিজ করে দিয়েছিলেন। এবার মরিসন জানালেন, তাকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভাবতে ইসরাইলে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভ শর্মা প্রভাবিত করছেন। যিনি এই উপনির্বাচনে সরকার দলের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। ধারণা করা হচ্ছে সংখ্যালঘু ইহুদিদের ভোট টানতেই মরিসন এই বক্তব্য দিয়েছেন।

তবে বিরোধী লেবার পর্টির সিনেট লিডার পেনিং ওং বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মরিসন একটি ‘মারাত্মক ও শঠতাপূর্ণ’ খেলায় মেতেছেন। তিনি এ জাতীয় মাধ্যমে কিছু ভোট জোগার করতে চেয়েছেন। এর জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করছেন না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য