কনস্যুলেটে তল্লাশি, খাশোগিকে হত্যার প্রমাণ পাওয়ার দাবি তুরস্কেরতুরস্কের পুলিশ নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির সন্ধানে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেট ভবনের ভেতর তল্লাশি চালিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ওই কনসুলেটে প্রবেশের পর থেকেই নিখোঁজ সৌদি রাজপরিবারের নীতির কঠোর সমালোচক খাসোগি। তাকে কনসুলেটের ভেতরেই হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে বলে দাবি আঙ্কারার। রিয়াদ অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তাদের ইস্তাম্বুল কনসুলেটে তল্লাশি চালাতে চেয়ে তুরস্কের করা অনুরোধে সৌদি আরব রাজি হওয়ার পর সেখানে তল্লাশি চালায় তুরস্কের পুলিশ। সেখানে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পর অপরাধস্থল তদন্তকারীদের প্রায় ১০ জনের একটি দলকে মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর সৌদি কনসুলেট ত্যাগ করতে দেখেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তদন্তকারীদের চারটি ফরেনসিক গাড়ি কনসুলেট ভবনের বাইরে থেকে মাটির নমুনা ও বাগান থেকে একটি ধাতব দরজা তুলে নেয়; তল্লাশি কাজে পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরও অংশ নেয়।

অক্টোবরের ২ তারিখ থেকে নিখোঁজের আগে খাসোগিকে সর্বশেষ যেখানে দেখা গিয়েছিল, সেই কনসুলেট ভবনের ভেতরে তুরস্ক ও সৌদি আরবের একটি যৌথ তদন্ত দল তল্লাশি চালাবে বলে এর আগে এক তুর্কি কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল।

ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি করে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তুরস্কের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’কে বলেছে, ‘জামাল খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে—নিজেদের এমন দাবির সপক্ষে প্রমাণ পেয়েছেন তারা।’

জামাল খাশোগি গত সপ্তাহে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের সৌদি কন্স্যুলেটে প্রবেশের পর আর বের হননি। সৌদি আরব অবশ্য বলছে, খাশোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এর প্রমাণ চাওয়া হলে তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। তুরস্কের দাবি, তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। এবার নিজের দাবির পক্ষে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করলো তুরস্ক।

সোমবার রাতে তুর্কি পুলিশের একটি তদন্ত দল ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করে। সেখানে প্রায় ৯ ঘণ্টা তল্লাশি শেষে মঙ্গলবার ভোরে তা দূতাবাস ত্যাগ করেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনুসন্ধানী দলটিতে অপরাধ তদন্ত বিভাগের ১০ জন সদস্য ছিলেন। তারা চারটি গাড়িতে করে এসে সৌদি কনস্যুলেটের বাইরে থামেন। তারা সেখানকার বাগানের মাটির নমুনা ও একটি ধাতব দরজা নিয়ে গেছেন। এই তদন্ত দলে পুলিশের একটি প্রশিক্ষিত কুকুরও ছিল।

একই সময় সৌদি আরবে একটি তদন্ত দলও কনস্যুলেটের ভেতরে অনুসন্ধান চালিয়েছে। এর আগে কূটনৈতিক ‍সূত্রগুলো জানিয়েছিল, সোমবার বিকাল কিংবা সন্ধ্যায় তুকি-সৌদি যৌথ তদন্ত দল কনস্যুলেটটি তল্লাশি করবে। তল্লাশি শেষে তুর্কি তদন্ত দল চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সৌদি তদন্ত দলও সেখান থেকে বের হয়েছে।
ইস্তানবুল থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জামাল এলশায়াল বলেন, এই ইস্যুতে কয়েক দিনের অচলাবস্থার পর এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তুর্কি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় আরও বলেছে, তাদের তদন্ত দল কনস্যুলেটের ভেতরে প্রমাণ নষ্ট করার আলামতও পেয়েছেন। আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে কনস্যুলেট তল্লাশির ফল জানানো হবে বলেও জানিয়েছে দফতরটি।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সৌদি আরব জামাল খাশোগির নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করতে যাচ্ছে। আর নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, সৌদি আরবের নতুন ভাষ্য হবে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগিকে জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক করে দেশে নিয়ে আসার বিষয়টি অনুমোদন করেন। কিন্তু গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তা করতে ব্যর্থ হন। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভুলবশত তাকে হত্যা করেন। পরে ওই কর্মকর্তা নিজেকে বাঁচানোর জন্য বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনায় ‘দুর্বৃত্ত হত্যাকারীরা’ দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাদশাহ (সালমান) এই বিষয়ে কিছু জানার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এটা শুনে মনে হয়েছে দুর্বৃত্ত হত্যাকারীরা এই ঘটনায় দায়ী হতে পারে। আমি বলতে চাচ্ছি, কে জানে? আমরা দ্রুতই এই ঘটনার তলানিতে পৌঁছাতে যাচ্ছি, কিন্তু সৌদি বাদশাহ বিষয়টি সোজাসুজি অস্বীকার করেছেন।’

খাশোগি একসময় সৌদি সরকারের উপদেষ্টা থাকলেও একপর্যায়ে সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করা শুরু করেন এবং ২০১৭ সাল থেকে তিনি আমেরিকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনে চলে যান। সেখানে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে কলামিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য