12 10 18

সোমবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - মেইন স্লাইড - ঢাবিতে চান্স পেয়েও আঁখি মনির ভর্তি অনিশ্চিত

ঢাবিতে চান্স পেয়েও আঁখি মনির ভর্তি অনিশ্চিত

ঢাবিতে চান্স পেয়েও আঁখি মনির ভর্তি অনিশ্চিতআজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চিত দিন কাটাচ্ছেন অদম্য মেধাবী আঁখি মনি ও তার পরিবার। কোনো মতে এক বেলা খেয়ে অন্যের বাড়িতে টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালালেও ভর্তির টাকা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন আঁখি মনি। তার মনে হচ্ছে এখান থেকেই হয়তো ইতি টানতে হবে লেখা-পড়ার। তারপরেও চেষ্টার ত্রুটি নেই আঁখি মনির। সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন।

App DinajpurNews Gif

আখি মনি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার আদিতমারী গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। গত ১০ বছর পূর্বে তার বাবা জয়নাল আবেদীন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ৪ বোন ও ১ ভাইয়ের সংসার চালাতে মা মনোয়ারা বেগম অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে অতি কষ্টে দিনযাপন করছেন।

ভিটেবাড়ি বলতে মাত্র ৬ শতক জমির উপর টিনের চালা দিয়ে ঘর তৈরি করে সেখানেই বসবাস করে আসছেন। বড় ২ বোনের বিয়ে হয়েছে আর ছোট ভাই মামুনুর রহমান ১০ম শ্রেণির ছাত্র। লেখাপড়ার ফাকে মামুন সংসার চালাতে মাঝে মধ্যে লেবারের কাজও করে। লেখাপড়ার খরচ চালাতে আঁখি মনি নিজেও টিউশনি করে। এত কিছুর পরেও অদম্য মেধাবী আঁখিকে দারিদ্রতা দমাতে পারেনি।

আঁখি মনি জানান, এবছর ঢাবিতে ‘খ’ ইউনিটে ২৫২৫তম স্থান পেয়েছে। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে একজন বিসিএস ক্যাডার হতে চায়। কিন্তু উচ্চশিক্ষা গ্রহণের শুরুতেই অর্থ তার বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাবিতে ভর্তি ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ তার প্রায় ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন। মেয়ের ভর্তির অর্থ যোগানের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে শুরু করেছেন আঁখি মনির মা। সেই সাথে সমাজের বিত্তশালীদের সহায়তা কামনা করছেন আঁখি মনি। অর্থ সহায়তা পেলেই তার স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটা শুরু হবে এই অদম্য মেধাবীর।

আঁখি মনি ২০১৬ সালে কিসামত চরিতাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪.৬১ ও ২০১৮ সালে আদিতমারী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

আখির মা মনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অন্যের বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করে আমার মেয়েকে অনেক কষ্টে লেখাপড়ার খরচ দিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তো অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার কাছে এতো টাকা নেই। টাকার অভাবে যাতে আমার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ না হয় এজন্য সমাজের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য