কৃষকের মুখে হাসি, ঘরে উঠছে সোনালি ফসলআজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: গত মৌসুমে চাষাবাদের খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম পাওয়া যায়নি। এরপর বন্যার ধকল। এসবের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আগাম জাতের আমন ধান মুশকিল আসান হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই এই ধান কাটার মহা উৎসব শুরু হয়েছে লালমনিরহাটের ফসলি মাঠে।

বর্তমানে ধানের মূল্য বেশি থাকায় লাভবান হওয়ার আশায় মুখ ভরা হাসি নিয়ে আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত কৃষকেরা। সোনালী ফসল ঘরে তুলছে আর তা দিয়ে গোলা ভরছে তারা।

অপরদিকে দীর্ঘদিন কর্মহীন ছিল যে কৃষিশ্রমিকেরা, তাদেরও বড়ো খোশ মেজাজ। তাদেরও আয় রোজগারের পথ খুলে দিয়েছে মাঠভরা সোনালি ধান।

উত্তরের জনপদ হিমালয়ের পাদদেশ তিস্তার কোল ঘেঁষে যাওয়া সীমাস্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। পশ্চিমে তিস্তা নদী আর পূর্বে ভারতীয় সীমান্তের মাঝখানে অবস্থিত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা। আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। ধানের বাড়তি দাম কৃষককে করে তুলেছে আশাবাদী।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাযায়, ধান ক্ষেতের মাঝে উঁকি দিচ্ছে আগাম জাতের সোনালি ধান। আর সেই ধান কাটতে ও মাড়াই করতে ব্যস্ত সময় পার করছে এ অঞ্চলের অলস সময় পার করা কৃষকরা। যাদের আবার ধান কাটা ও মাড়াই করা হয়েছে। তারা জমি চাষ করে নতুন ফসলের প্রস্তিুতি নিচ্ছেন।

জানাযায়, আষাঢ় মাসের শুরুতেই অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে এ জাতের ধানের চারা লাগানো হয়। চারার বয়স ২৫দিন হলে তারপর জমিতে রোপন করা হয়। জমিতে রোপনের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে ধান পাকা শুরু হয়। আর সেই ধান ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে কেটে ঘরে তোলা হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এর উদ্ভাবিত আগাম জাতের ধানগুলো হলো, বিনা-৭, ব্রী ৩৩, ব্রী ৫৬, ব্রী ৬২, পূর্বাচী ও হাইব্রীড।

উপজেলার পারুলিয়া চরের কৃষক আমছার আলী জানান, এ অঞ্চলে আগাম জাতের ধান আবাদ করে দিন দিন মঙ্গা কমে যাচ্ছে। ধানের ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ধান ৮০০ থেকে ৯০০টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। একই এলাকার কৃষক মমিনুর রহমান জানান, রোগ বালাই কম, একই জমিতে বছরে তিন থেকে চার ফসল আবাদ, ধানের দাম ও গো-খাদ্য হিসেবে খড়েরও দাম ভালো পাওয়ায় দিন দিন মানুষ আগাম জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

এ দিকে সিন্দুর্না চরে কৃষক এরশাদ হোসেন জানান, মঙ্গার দিনে এ ধানটি কৃষকের ঘরে আনন্দ বয়ে এনেছে। ধানের ফলনও ভালো। প্রতিবিঘা জমিতে ধান ফলেছে ১১ থেকে ১২ মণ। বাজারে দামও ভালো। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা। এছাড়া গো খাদ্য হিসেবে খড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি বিঘা জমি থেকে খর বিক্রি করে পেয়েছি ২ হাজার টাকা।

হাতীবান্ধা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, এবারে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৪শত ৯৫ হেক্টর জমি। আর অর্জিত হয়েছে ১৯ হাজার ৫শত ১০ হেক্টর জমি। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। তবে গত বছর অর্জিত হয়েছে ১৯ হাজার ৫শত ৮৫ হেক্টর জমি। এ বছর আগাম জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে, ১৮শত ২৮ হেক্টর জমিতে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, দিন দিন কৃষক আগাম জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা আগাম জাতের ধান উৎপাদনে কৃষককে বিভিন্ন ভাবে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। আগাম জাতের ধান চাষ হওয়ায় বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগাম জাতের ধান বিঘা প্রতি ১৪ থেকে ১৫ মণ হয়। ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে এই ধান কেটে ঘরে তোলা যায়।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধূ ভূষণ রায় জানান, চলতি মৌসুমের সকল ফসলি জমির আগাম জাতের আমন পরিপক্ক হয়ে কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে জেলার আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।এবার আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বেশি হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা রয়েছে।

চাষাবাদে খরচের তুলনায় এইবার বাজারে ধানের দাম বেশি। তাই কৃষক আনন্দিত। চলতি মৌসুমের আগাম আমন ধান বেচে তারা বেশ লাভবান হতে পারবে বলেই আশা। তিনি দাবি করেন, কৃষকের বীজতলা তৈরি থেকে ধান কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত কৃষিবিভাগ সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে এসেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য