দিনাজপুরে ৮ দফা দাবীতে পরিবহন শ্রমিকদের স্মারকলিপি প্রদানদিনাজপুর সংবাদাতাঃ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর কতিপয়সমূহ বাতিলসহ ৮দফা দাবীতে দিনাজপুরে মোটর পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। স্মারকলিপিতে সড়কে নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার স্বার্থে চলতি মাসের ১৫ অক্টোবরে মধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-১০১৮ বাতিলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ পরিবহন সেক্টরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোকর) সকাল ১০টায় সুইহারীস্থ নিজস্ব কার্যালয় থেকে দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম রফিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি’র নেতৃত্বে এক বিশাল মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম রফিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাইফুর রাজ চৌধুরী।

পরে দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম রফিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি’র নেতৃত্বে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর কতিপয়সমূহ বাতিলসহ ৮দফা দাবীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর অন্য একটি অনুষ্ঠানে অফিসের বাইরে থাকায় তাঁর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অফিসের এক কর্মচারী।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সড়কে শৃঙ্খলা, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে যুগোপযোগি আইনের দাবী আমাদের দীর্ঘদিনের। শ্রমিক ও জনগণের আকাঙ্খা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করা হবে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। গত ১৯ সেপ্টেম্বর’ ২০১৮ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে “সড়ক পরিবহন আইন-১০১৮” পাশ করা হয়েছে। এই আইন পাশ করার জন্য আমরা অভিনন্দন জানাই। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এই আইনে এমন কিছু বিষয় এবং ধারা যুক্ত করা হয়েছে যা পরিবহন শ্রমিকদের জীবন এবং জীবিকাকে জটিল করে তুলবে।

সড়ক পরিবহন একটি দেশের রক্ত প্রবাহের মত। দেশের রক্ত প্রবাহকে সচল রাখার জন্য ৭০ লক্ষ পরিবহন শ্রমিক দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের অবদানকে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদেরকে অপরাধী এবং প্রতিপক্ষ ভেবে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা এই মানসিকা ও আইন সংশোধন চাই।

স্মারকলিপি আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৪-১৫ সালে জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশের পরিবহন শ্রমিকরা আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিল। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরকে অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া পরিবহন শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট উপলব্ধি করে বহু অনুদান প্রদান করেছেন। যার কারনে আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

স্মারকলিপিতে সড়কে নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার স্বার্থে চলতি মাসের ১৫ অক্টোবরে মধ্যে “সড়ক পরিবহন আইন-১০১৮” বাতিলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে এবং পরিবহন সেক্টরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

পরিবহন শ্রমিকদের ৮ দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে- সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখে সকল মামলায় জামিনযোগ্য বিধান সন্নিবেশ করা, শ্রমিকের দন্ডে ৫ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডের বিধান যুক্ত করা, সড়ক দুর্ঘটনা জটিলতার মামলার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণির স্থলে ৫ম শ্রেণি নির্ধারন করা, কাজগপত্র চেকিং এর নামে সড়কে পুলিশের অহেতুক হয়রানী বন্ধ করা, ওয়েস্কেলে জরিমানার পরিমান কমানো ও শাস্তি বাতিল করা, আইনে কোন কোন ক্ষেত্রে অর্থদন্ডের পরিমান উল্লেখ না থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার সমূহ বিপদ থেকেছে, এটির সংশোধন এবং আলোচনার মাধ্যমে অন্যান্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করে। ফলে দিনাজপুরের সকল রুটে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। বেলা ১২টার পর শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার পর হতে পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মিছিলে ও স্মারকলিপি প্রদানের সময় দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. সাইফুর রাজ চৌধুরী, মো. তৈয়ব আলী, সাংগঠনিক মো. সাহাবুব ভাগিনা, অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ আলী, সড়ক সম্পাদক মো. সামসুল আলম, সহ-সড়ক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. রহিদুল ইসলাম রেজু, প্রচার সম্পাদক মো. জনি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, কার্যকরি সদস্য মো. নাসির হোসেন রতœ, মো. আলমগীর হোসেনসহ নির্বাচিত কার্যকরি কমিটির অন্যান্য সদস্য ৪/৫ শতাধিক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য