সৌদি অর্থনীতিবিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগসৌদি আরবের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এসাম আল জামিলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছেন দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়েছিলেন জামিল। এবার তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডে যোগ দেওয়া, প্রতিবেশি কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ করাসহ সৌদি আরবে বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্দোলন কর্মীদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগের কথা জানানো হলেও ওই অর্থনীতিবিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে লন্ডনভিত্তিক সৌদি মানবাধিকার সংস্থা এএলকিউএসটি’র প্রধান ও জামিলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়াহিয়া আসিরি আল জাজিরা’কে নিশ্চিত করেছেন যে, এসাম আল জামিলের বিরুদ্ধেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারি সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

২০‌১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী ও পণ্ডিত ব্যক্তির সঙ্গে আল জামিলকেও বন্দি রাখা হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় তাদের বন্দি করা হয়। সৌদি যুবরাজ রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো’র ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে জামিল তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

গ্রেফতারের পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক পোস্টে জামিল বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের কথা মতো আরামকো’র মূল্য ২ লাখ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হলে কর্তৃপক্ষকে কোম্পানি মজুত তেলের দাম কমাতে হবে।

সৌদি আরব গত নভেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে। যদিও পরে আর্থিক জরিমানা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সৌদি ব্যবসায়ী ও প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল। তাকেও দুর্নীতির অভিযোগে দুই মাস আটক রাখা হয়।

সৌদি আরবের শীর্ষ দৈনিক পত্রিকা ওকাজ জানিয়েছে, আল জামিলের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বা অনুমতি ছাড়াই নিজের দেশ সম্পর্কে বিদেশি কূটনীতিকদের তথ্য ও বিশ্লেষণ সরবরাহ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অঞ্চলের চলমান কূটনৈতিক সংকটের মধ্যেই আল জামিলের বিরুদ্ধে কাতার সরকারের এক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

গত বছরের ৫ জুন সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও মিসর মিলে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। তারা দেশটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনে কিন্তু কাতার তা অস্বীকার করে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য