ঘরে ফিরলেও ভারতের কৃষক আন্দোলন চলবে১০ দিনের ‘কিষাণ ক্রান্তি যাত্রা’ শেষে ঘরে ফিরেছে ভারতের কৃষকরা। উত্তাল বিক্ষোভের মুখে সরকার তাদের দাবি মেনে আলোচনায় বসলেও কৃষকরা বলছে, মূল দুটি দাবির ব্যাপারে কোনও প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। সরকারের প্রতি তাদের গভীর অবিশ্বাসের কথা জানিয়ে কৃষকরা বলছে, বাস্তব পদক্ষেপের আগে তারা সরকারের কোনও কথা বিশ্বাস করতে রাজি নয়। ১০ দিনের কর্মসূচি শেষ হলেও তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন থামবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা।

ঋণ মওকুফ, ষাটোর্ধ কৃষকদের গণপেনশন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস, ফসলের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ আর স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ ১৫ দফা দাবি নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হরিদ্বারের টিকায়েত ঘাট থেকে পদযাত্রা শুরু করে উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যের কৃষক সংগঠন। মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) ওইসব কৃষক সংগঠনের ডাকে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ৭০,০০০ কৃষক। মঙ্গলবার তারা দিল্লি এসে পৌঁছায়। তাদের গন্তব্য রাজঘাটে চৌধুরী চরণ সিং স্মৃতি সৌধ। পুলিশ প্রতিবাদী কৃষকদের গাজিয়াবাদে দিল্লি গেটের কাছে আটকে দেয়। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর লাঠি চার্জ করার পাশাপাশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে বেশ কয়েকজন কৃষক আহত হয়।

উত্তাল বিক্ষোভের এক পর্যায়ে মধ্যরাতে কৃষকদের রাজঘাটে ঢোকার অনুমতি মেলে। ভারতীয় কিশান ইউনিয়নের মুখপাত্র রাকেশ টিকায়িত বলেছেন, ‘কৃষক যাত্রার লক্ষ্য ছিল কিষাণ ঘাটে পৌঁছানো, আমরা সেটা করতে পেরেছি। রাত প্রায় সাড়ে বারোটার দিকে এসে পুলিশ আমাদেরকে সেখানে ঢোকার পথ করে দেয়। আমরা রাত দেড়টায় সেখানে পৌঁছাই এবং চৌধুরী চরণ সিং আর মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করি’।

এরপর কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সরকার। কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এএনআইকে বলেন, রাজনাথের সঙ্গে কৃষকদের আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষকদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছেন। কৃষি প্রতিমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরই ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন জানিয়ে দেয় তারা স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মতো কৃষি পণ্যে ন্যূনতম বিক্রয় মূল্য ও ঋণ মকুবের ব্যাপারে কোনও আশ্বাস পাননি। সংগঠনের পক্ষে যুধবীর সিং বলেন, ১১টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাত্র ৭টি দাবি মানতে রাজি সরকার। কৃষকদের আন্দোলন থামবে না।

বুলান্ডাহাহর জেলা থেকে আসা কৃষক রবীন্দ্র শর্মা জানান, ‘গতকাল সরকার আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে, তাতে আমরা খুবই হতাশ। আমাদের যেভাবে লাঞ্ছনা করা হয়েছে, তা ছিল খুবই অপ্রত্যাশিত। সরকারের প্রতি আমাদের অবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আমরা সন্তুষ্ট নই। বাস্তব পদক্ষেপই কেবল সরকারের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ফেরাতে পারে।’

কৃষকদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কৃষকদের দিল্লিতে প্রবেশ আটকানো প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, ‘কৃষকদের রাজধানীতে ঢুকতে দেওয়া উচিত। সরকারের এই পদক্ষেপ ঠিক নয়। আমি কৃষকদের সঙ্গে রয়েছি।’ মঙ্গলবার মহাত্মা গান্ধীর ১৪৯-তম জন্মবার্ষিকী পালন করছে ভারত। পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব অহিংসা দিবসও এটি। এদিন কৃষকদের বাধা দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। টুইটারে বিজেপিকে আক্রমণ করে রাহুল লিখেছেন, ‘বিশ্ব অহিংসা দিবসে বিজেপির গান্ধী জয়ন্তীর সমারোহ দিল্লির দিকে আসা শান্তিপূর্ণ কৃষকদের পিটিয়ে শুরু হল।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখন কৃষকেরা দেশের রাজধানীতে এসে নিজের বেদনাও প্রকাশ করতে পারবেন না।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য