দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আগামী ৫ অক্টোবর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় ৭২৭ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

দেশে বর্তমানে সরকারি ৩৭টি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৮১৮টি। এই আসনের বিপরীতে অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৬৬ হাজার। ৩৭টি কলেজের মধ্যে ১৯টি মেডিকেল কলেজে এমবিএসএস’র ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. কান্তা রায় রিমি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. কান্তা রায় রিমি জানান, ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আনা-নেয়া, আসন বিন্যাস সব কিছু হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের তত্বাবধানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ডিজিটাল ডিভাইস সংযুক্ত গাড়ীতে করে প্রশ্ন আনা এবং উত্তরপত্র ও ব্যবহৃত প্রশ্নপত্র/অব্যবহৃত প্রশ্নপত্র প্রেরণ কাজ সম্পন্ন হবে।

কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান ছাড়া কেউ মোবাইল, ঘড়ি, চশমা আনতে পারবেন না। প্রতিষ্ঠান প্রধান যে মোবাইলটি ব্যবহার করবেন সেটিও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন। পরীক্ষার আসন বসাবেন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে আগত প্রতিনিধিরা। পরীক্ষা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরীক্ষার দিন সকাল ৮ টার মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে। এর পর পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র ও ব্যবহৃত প্রশ্নপত্র/অব্যবহৃত প্রশ্নপত্র প্রেরণ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কেউ কেন্দ্রের বাইরে যেতে পারবেন না।

এছাড়া হলে অবস্থানকারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হতে পারবেন না। ভর্তি পরীক্ষায় যদি কোন শিক্ষক কর্মকতা-কর্মচারীর ছেলে-মেয়ে বা নিকট আত্মীয় অংশগ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সেই শিক্ষক, কর্মকতা-কর্মচারী পরীক্ষার হলে ডিউটি করতে পারবেন না। সেদিন যাদের ডিউটি থাকবে তারা ছাড়া কোন শিক্ষক, কর্মকতা-কর্মচারী কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

তিনি আরো জানান, সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীদেরকে এইচএসসির রেজিষ্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র অবশ্যই সঙ্গে আসতে হবে। সকাল ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের পর কাউকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। ৯টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষার্থীরা কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন। ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, কোন প্রকার বক্স, মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না।

যারা হিজাব পরে আসবেন তাদেরকে অল্প সময়ের জন্য পর্দার ভিতরে হিজাব খুলতে হবে। গেটে কালো কাপড় দিয়ে দু’টি ঘর তৈরি করা হবে। প্রধান গেটে দায়িত্বে থাকা ৪জন শিক্ষক (২জন পুরষ ও ২জন মহিলা) তল্লাশী করে পরীক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্রে প্রবেশ করাবেন। প্রবেশপত্র ও এইচএসসির রেজিষ্ট্রেশন কার্ড হাতে উচিয়ে ধরে প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি জানান, একটি স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এবারও মেধাবীরা এমবিবিএস ভর্তির সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অধ্যক্ষ কান্তা রায় রিমি। এ জন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য