টাকার অভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না লিপিআজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করার অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে হতদরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়া লিপি খাতুন নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর। সে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামে মৃত আজিজার রহমান ও রহিমা বেগমের মেয়ে। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়।

জানাগেছে, লিপি খাতুনের বাবা আজিজার রহমান আনসার ভিডিপির সদস্য ছিলেন। ২০০৫ সালে নাটোরে কর্মরত থাকাবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি। সেই থেকে তাদের পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। এক ছেলে দুই মেয়েকে তাকে মা রহিমা বেগম দুশ্চিন্তায় পড়েন।

সেই থেকে অনেক কষ্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ৫ শতক জমির উপর বসত-বাড়ি ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নেই তাদের। এ অবস্থাতেও সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন তিনি।

তিন সন্তানের মধ্যে লিপি খাতুন সবচেয়ে মেধাবী। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। অনেক কষ্টে পড়াশুনা করে সে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে ১৮৩৮তম স্থানে রয়েছে লিপি।

অদম্য মেধাবী লিপি খাতুন হাতীবান্ধা শাহ গরিবুল্য মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ ও হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে।

লিপি খাতুন জানায়, শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়াশুনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। কিন্তু ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার খরচ আমার মা চালাতে পারবে না। আমার ইচ্ছে পড়াশুনা করে বিসিএস ক্যাডার হবো।

তার মা রহিমা বেগম বলেন, অনেক কষ্টে আমার সংসার চলে। মেয়ে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে কিন্তু পড়াশুনা চালানোর টাকা আমার নেই। জানি না তার স্বপ্ন পূরণ হবে কীনা?

তবে শেষ পর্যন্ত কি অদম্য মেধাবী লিপি খাতুন অর্থের কাছে হেরে যাবেন? একটু সহযোগিতা পেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবেন লিপি খাতুন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য