দিল্লিতে ৭০ হাজার কৃষকের পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিচার্জভারতে কৃষি ঋণ মকুবসহ বিভিন্ন দাবিতে ‘কিষাণ ক্রান্তি পদযাত্রায়’ অংশগ্রহণকারীদের ওপর লাঠিচার্জ চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেইসঙ্গে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। দিল্লি-উত্তর প্রদেশ সীমান্তে বিক্ষোভকারী কৃষকদের ঠেকাতে এ ব্যবস্থা প্রয়োগ করে তারা।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা দিল্লি-উত্তর প্রদেশ সীমান্তে স্থাপিত ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করায় তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের বাধা দেওয়া ও লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ অনেকে।

ঋণ মকুব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ফসলের ন্যায্য দামসহ একাধিক দাবিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হরিদ্বারের টিকায়েত ঘাট থেকে পদযাত্রা শুরু করে উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যের কৃষক সংগঠন। মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) ওইসব কৃষক সংগঠনের ডাকে দিল্লিতে ঢোকার চেষ্টা করে ৭০,০০০ কৃষক। কৃষকরা এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে।

বড়সড় জমায়েত হবে অনুমান করে পুলিশ সোমবার (১ অক্টোবর) থেকেই দিল্লি-গাজিয়াবাদ সীমানায় এক সপ্তাহের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। সেই ধারা অমান্য করে রাজধানীতে ঢোকার চেষ্টা করতেই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। কৃষকরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ চালানো হয়। কৃষকদের ওই পদযাত্রার মূল আয়োজক ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন।

দিল্লির কিষাণঘাটের দিকে পদযাত্রাটির যাওয়ার কথা ছিল। সংগঠনের সভাপতি নরেশ টিকায়েত বলেন, ‘কেন আমাদের থামানো হবে? পদযাত্রা শান্তিপূর্ণ ছিল। সরকারকে যদি কৃষকদের সমস্যার কথা বলতে না পারি তাহলে কাকে বলব? আমরা কী পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে গিয়ে আমাদের সমস্যার কথা বলব?’

এদিকে কৃষকদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কৃষকদের দিল্লিতে প্রবেশ আটকানো প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, ‘কৃষকদের রাজধানীতে ঢুকতে দেওয়া উচিত। সরকারের এই পদক্ষেপ ঠিক নয়। আমি কৃষকদের সঙ্গে রয়েছি।’

মঙ্গলবার জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৪৯-তম জন্মবার্ষিকী পালন করছে ভারত। পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব অহিংসা দিবসও এটি। এদিন কৃষকদের বাধা দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। টুইটারে বিজেপিকে আক্রমণ করে রাহুল লিখেছেন, ‘বিশ্ব অহিংসা দিবসে বিজেপির গান্ধী জয়ন্তীর সমারোহ দিল্লির দিকে আসা শান্তিপূর্ণ কৃষকদের পিটিয়ে শুরু হল।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখন কৃষকেরা দেশের রাজধানীতে এসে নিজের বেদনাও প্রকাশ করতে পারবেন না।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য