মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নেওয়া কিছু পদক্ষেপ ‘দুঃখজনক’ হলেও তার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান লারস হেইকেনস্টেন।

শুক্রবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চলতি বছর শান্তিতে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণার কয়েকদিন আগে এ হেইকেনস্টেন বলেন, পুরস্কার দেওয়ার পরের কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তা প্রত্যাহারের কোনো মানে হয় না, সেক্ষেত্রে বিচারকদের ধারাবাহিকভাবে পুরস্কারপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমনাভিযানের ফলে নাফ নদীর দুই তীরে ভয়ঙ্কর মানবিক সঙ্কট সৃষ্টির এক বছরের মাথায় অগাস্টে জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটিয়েছে, যার ফলে সেখানকার ৭ লাখেরও বেশি বাসিন্দা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সু চি নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার ‘বিদ্বেষমূলক প্রচার উসকে’ দিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ ‘আলামত ধ্বংস করে’ এবং সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা না করে সেই নৃশংসতায় ‘ভূমিকা’ রেখেছে।

গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া সু চি বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় তার ‘নৈতিক কর্তৃত্ব’ ব্যবহারে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।

“মিয়ানমারে তিনি যা করছেন তা যে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ তা আমরা দেখছি। আমরা মানবাধিকারের পক্ষে, এটা আমাদের অন্যতম প্রধান মূল্যবোধ। অবশ্যই বিস্তৃত অর্থে তিনি এর (রাখাইনে দমনপীড়ন) জন্য দায়ী, যা খুবই দুঃখজনক,” বলেন নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান হেইকেনস্টেন।

জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের ওই তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ বলে অভিহিত করেছিল মিয়ানমার সরকার। গত বছরের অগাস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়াতেই ‘বিদ্রোহ দমনে এ বৈধ অভিযান’, দাবি তাদের।

বড় ধরনের কোনো অপরাধের কথা স্বীকার না করলেও সরকার রাখাইনের পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামলাতে পারত বলে গত মাসে মন্তব্যও করেছিলেন সু চি।

“পুরস্কার প্রত্যাহারের চেষ্টা অর্থপূর্ণ কিছু হবে বলে মনে করিনা আমরা, পুরস্কার নেওয়ার পর বিজয়ীরা যা করছে তার যোগ্যতা নিয়ে তাহলে আমাদের ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যেই থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরস্কার পাওয়ার পর অনেকেই এমন কিছু করেন যা আমরা অনুমোদন করতে পারি না, সেগুলো যে ঠিক তাও মনে করি না। আগেও এমনটা ছিল, সবসময়ই হবে। এটা এড়ানো যাবে না বলেই মনে হয় আমার,” বলেন হেইকেনস্টেন।

স্টকহোমভিত্তিক এ ফাউন্ডেশনই ছয়টি বিভাগে সুইডেন ও নরওয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নোবেল পুরস্কারের দেখভাল করে থাকে।

পুরস্কার দেওয়ার পর তা কেড়ে নেওয়ার নিয়ম নেই বলে এর আগে অগাস্টেই জানিয়েছিল প্রতিবছর শান্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তের নাম ঘোষণাকারী নরওয়ের নোবেল কমিটি।

শুক্রবার অসলোতে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য