Rape Niejatonগাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার তাজনগর সরকারী বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফের লালশার শিকার পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রী বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা। এমন পরিস্থিতির মুখে ওই ছাত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনির মডেল টেষ্টের শেষ দুই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। ওই দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরীর শাস্তির দাবী জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর পিতা। সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করে এসেছেন দুই কর্মকর্তা। ঘটনার পর থেকে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে ওই বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, উপজেলার তাজনগর সরকারী বিদ্যালয়ের এগারো বছর বয়সি ওই ছাত্রী ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনির মডেল টেষ্টের চতুর্থ দিনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে যায়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ওই ছাত্রীর নিকট গিয়ে হঠাৎ তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে হাত দেয় বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফ। এসময় ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফ তাকে ধমক দিয়ে দমিয়ে রাখেন।

পরীক্ষা শেষে বাড়ী গিয়ে ওই ছাত্রী বাবা-মাকে বিষয়টি জানালে তারা বিদ্যালয়ে এসে প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফ ছাত্রীর বাবা-মাকে উল্টো হুমকি-ধামকি দেন। এক পর্যায়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম এসে চড়াও হন ছাত্রীর বাবা-মার উপর। এই অবস্থায় ছাত্রীর বাবা-মা বিদ্যালয় থেকে ফিরে এসে এলাকাবাসীকে বিষয়টি অবগত করান।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সঠিক সময়ে ক্লাশে যান না। আর শিক্ষকরা পাঠদানে না গিয়ে ক্লাশে পাঠান দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফকে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফ শিক্ষকের ন্যায় ক্লাশে পাঠদান করান। যার কারণে আরিফুল ইসলাম আরিফ বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে। তাই এই অভিযুক্তের উপযুক্ত বিচার দাবী করেন এলাকাবাসী।

ওই ছাত্রীর এক চাচা জানান, দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফ বিদ্যালয়ে যেগদান করার কিছুদিন পর আরেক ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় ভাবে সেটি আপোস মিমাংসা হয়। সেই যাত্রায় আর্থিক জরিমানা দিয়ে রক্ষা পান আরিফুল ইসলাম আরিফ।

ছাত্রীর পিতা বলেন, এমন অবস্থায় পরে মেয়েটি বিদ্যালয়ে যাচ্ছেনা। য়ার কারণে পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী মডেল টেষ্টের শেষ দুই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সে। তাই বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফের শাস্তির দাবীতে তিনি রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, ওই ছাত্রীর পিতার নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সোমবার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বিদ্যালয়ে তদন্তে গেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাজনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা সরকার বলেন, আমিতো নিজ চোখে কোন ঘটনা দেখিনি। তাই এখন কিছু বলতে পরছিনা। এই ঘটনার জন্য যে, তদন্তটিম গঠন করা হয়েছে তারাই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও অভিযুক্ত দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী আরিফুল ইসলাম আরিফের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা খাতুন বলেন, ওই ছাত্রীর বিষয়ে অভিযোগ পেয়েই রোববার সন্ধ্যায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে জরুরী আলোচনা করা হয়েছে।

ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এই বিষয়ে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য