নাফটার বদলে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডামেক্সিকোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (নাফটা) পরিবর্তে নতুন চুক্তি কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) নামের এই চুক্তির ফলে কানাডার দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে আরও বেশি মার্কিন পণ্য প্রবেশের সুযোগ পাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার গাড়ি রফতানি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার যৌথ বিবৃতিতে এই চুক্তির বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন থেকেই নাফটা চুক্তি বদলের কথা বলে আসছেন। এই চুক্তির আওতায় প্রায় এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়ে থাকে। তবে কানাডা এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়। রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আজ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন, ও ২১ শতকের উপযোগী আধুনিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দূত রবার্ট লাইথিজার ও কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তি আমাদের কর্মী, কৃষক, পশুপালক ও ব্যবসায়ীদের একটি উন্নত মানের বাণিজ্য চুক্তি দেবে যা মুক্তবাজার, অবাধ বাণিজ্য ও এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ফল দেবে। শুল্ক বাড়িয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ চলার মধ্যে নতুন চুক্তির ঘোষণা এল। মেক্সিকো ও কানাডার অ্যালুমিনিয়ামের ওপরও শুল্ক বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চুক্তিতে আসলেই কি আছে তার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা না হলেও বিবিসি বলছে, আশা করা হচ্ছে এতে কানাডার দুগ্ধ শিল্প ও যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি রফতানি নিয়ে উপধারা সন্নিবেশিত হয়েছে। সূত্র উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কানাডার দুগ্ধ বাজারে মার্কিন কৃষকেরা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক আরোপে সত্ত্বেও কানাডার অটোমোবাইল শিল্প বেশ কিছুটা সংরক্ষণশীলতা আদায় করে নিতে পেরেরেছ। তবে অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর বর্তমানে আরোপিত শুল্ক বহাল থাকবে।

গত আগস্টে মেক্সিকোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের ক্রমাবনতি হতে থাকে। ট্রাম্প প্রশাসন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কানাডাকে রবিবার পর্যন্ত সময় বেধে দেয়। ট্রাম্পের অধীনে সংরক্ষণবাদী নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বহুপক্ষীয় বাণিজ্য বাতিল করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতেই উৎসাহ দেখাচ্ছে। এতে বিশ্বের মুক্ত বাণিজ্য দশকের ওপর হুমকি তৈরি হয়েছে। এই নীতির আওতায় চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন ট্রাম্প। যার ফলাফল এরমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির ওপর পড়তে শুরু করেছে আর আশঙ্কা রয়েছে এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

এই চুক্তিতে পৌঁছাতে ১৩ মাস সময় লেগেছে- কোনও কোনও সময় মনে হয়েছে চূড়ান্ত চুক্তিতে হয়তো পৌঁছানোই সম্ভব হবে না। একাধিকবার নাফটা চুক্তি ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি গত আগস্টে মেক্সিকোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর কানাডাকে ‘শীতের মধ্যে’ ফেলে দেওয়ারও হুমকি দেন। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কড়া বাক্য বিনিময়ের ফলে সম্পর্ক খানিকটা কঠোর হয়ে ওঠে। এসব কারনে চুক্তিতে পৌঁছানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক শিল্প কারখানায় স্বস্তি ফিরেছে। এসব কারখানা নাফটা চুক্তির ওপর নির্ভর করতো। আলোচনা শুরুর পর থেকেই তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এখনও এমন অবস্থানে রয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন তার দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষিত না হলে তিনি চুক্তিতে সম্মতি দেবেন না। তারা চুক্তির চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোতে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার পরিস্কার ছবি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য