মোঃ জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিমানবন্দরগুলোর নেই লাগেজ বেল্ট, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা। ফলে কোনো যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কাংখিত সেবাটুকুও না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রার শহরে অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক) বিমানবন্দর নির্মাণ করে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

যতদিন যাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান যাত্রী ততই বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ব্যবসায় নেমেছে বেশ কয়েক কোম্পানি। কিন্তু যাত্রী বৃদ্ধির তুলনার বাড়েনি সেবার মান। যাত্রীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা নয়, মুনাফায় বেশি ঝোঁক বিমান চলাচলকারী সংস্থার। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিমানবন্দরগুলো নেই লাগজে বেল্ট, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা।

ফলে কোনো যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কাংখিত সেবাটুকুও পাচ্ছেন না। কিন্তু বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো বলছে, এসব সেবা পেতে তারা নিয়মিত সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থও দিচ্ছে। তারপরও কাংখিত যাত্রী সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, খুব শিগরিই যাত্রী সেবার মান আরও বাড়ানো হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, বরিশাল, সিলেট, রাজাশাহী বিমানবন্দরে লাগেজ বেল্ট নেই। তাই বিমানবন্দরে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগকৃত কর্মীরা ট্রলি করে লাগেজ নিয়ে আসার পর যাত্রীদের হাতে তুলে দেন। একই সঙ্গে কয়েকটি বিমান অবতরণ করলে লাগেজ নিয়ে হিমসিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। সেই সঙ্গে আছে ভোগান্তিও, যাত্রীদের লাগেজ হাতে পেতে বাড়তি আধা থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে এসব বিমানবন্দরগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক। তাই হঠাৎ কোনো যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো সামর্থ নেই কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতিবছর সিভিল এভিয়েশন কর্র্তৃপক্ষকে যাত্রী সেবার মানের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ একটা অর্থ প্রদান করেন। সে অনুযায়ী প্রত্যেকটি বিমানবন্দরে একজন করে চিকিৎসক, প্রাথমিক চিকিৎসা, বেল্ট এবং অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

এ বিষয়ে ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছরে দেশীয় রুটে যাত্রী অনেক বেড়েছে। আর তার চাপ পড়তে শুরু করেছে। বিমানবন্দরগুলোতে এ কারণে যাত্রী সেবার মান আরও বাড়ানো দরকার।

অন্যদিকে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল বিমানবন্দরে লাগেজ বেল্ট না থাকার কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে কেন্দ্রীয় শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ নিয়ে বহু লেখালেখি হলেও কাজের কোন কাজ হয়নি। এদিকে ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে চলাচলকারী বিমান সংস্থাগুলো নিজেদের ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করায় বিমানের যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য