কাশ্মিরে গুলি ও গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যাভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে পুলিশ স্টেশনের সামনে বন্দুকধারীর গুলি ও গ্রেনেড হামলায় এক কনস্টেবল নিহত হয়েছে। রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ানে এই হামলা হয়। স্থানীয় সরকার ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছে কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনী।

জম্মু ও কাশ্মিরে আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় সরকার ও পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কাশ্মিরে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত সশস্ত্র বিদ্রোহীরা এরইমধ্যে জনগণকে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীন সদস্যরা তিন পুলিশ সদস্যকে অপহরণের পর হত্যা করে।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) কাশ্মিরজুড়ে চারটি আলাদা হামলার ঘটনায় এক বেসামরিক ও এক অজ্ঞাত ব্যক্তিসহ ছয়জন নিহত হয়। শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কাশ্মির পুলিশ জানায়, একজন আইনপ্রণেতার নিরাপত্তায় তার শ্রীনগরের বাড়িতে মোতায়েন থাকা অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তা (স্পেশাল পুলিশ অফিসার-এসপি) পিপল’স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিস থেকে সাতটি রাইফেল নিয়ে পালিয়ে যান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বন্দুকধারীরা সোপিয়ান পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারে এবং গুলি করতে থাকে। সেসময় সাকিব আহমদ মীর নামে ২৩ বছর বয়সী পুলিশ সদস্য আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় তার।

পুলিশের দাবি, হামলার পর বন্দুকধারীরা পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে পালিয়ে গেছে। পরে এলাকাটি ঘেরাও করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পুলিশের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা সোপিয়ানের পুলিশ স্টেশনে নির্বিচারে গুলি ছুড়েছে। সতর্ক জওয়ানরা সে হামলা প্রতিহত করেছে।’

উল্লেখ্য, কাশ্মির নিয়ে দুই প্রতিবেশি ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ দীর্ঘদিনের। সেখানকার সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামীকিকরণ হয়েছে। এখন সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে হিজবুল মুজাহিদীন সবথেকে সক্রিয়।

তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। কাশ্মির প্রশ্নে সমগ্র ভারতীয় স্টাবলিশমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সেখানকার সমস্যাকে ‘বিচ্ছিন্নতা আর জঙ্গিবাদের’ সমস্যা আকারে দেখা হয়ে থাকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য