PM healthনাগরিকদের সুস্বাস্থ্য এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের ‘বিশেষ দায়িত্ব’ হিসাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার যথাযথভাবে এই দায়িত্ব পালন করছে।

গতকাল সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নত করতে হলে, নাগরিকদের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। সেজন্য, আমরা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।

গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বান্দরবানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

এ বছরের স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মশা-মাছি দূরে রাখি : রোগ-বালাই মুক্ত থাকি’। বিশ্বে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের মধ্যে ১৭ ভাগই হচ্ছে বাহক বাহিত। ২০১০ সালে পৃথিবীতে বাহক বাহিত রোগে ৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ মারা য়ায়। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, যাতায়াত বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন, বনাঞ্চল ধ্বংস, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিবর্তন বাহক-বাহিত রোগগুলো ঝুঁকি ও বিস্তারের অন্যতম কারণ।

উষ্ণ মণ্ডলীয় দেশ হিসাবে বাংলাদেশেও নানা ধরনের বাহক-বাহিত রোগ বিরাজ করছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে বাহক-বাহিত রোগগুলোর মধ্যে ম্যালেরিয়া, ডেক্সগু, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া, চিকুনগুনিয়া এবং জাপানিজ এনকেফালাইটিজ অন্যতম। এছাড়া আমাশয়, ডায়রিয়াও বাহকের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

২০০৮ সালে ম্যালেরিয়ায় ৮৪ হাজার আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ১৫৪ জন। ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ৮৫১ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলেও ১৫ জন মারা যায়।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রমের সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

পার্বত্য জেলায় মশা-মাছির প্রকোপ বেশি হওয়ায় ওই এলাকাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য নির্ধারণ করায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সংস্থার সাথে যৌথভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করছে। ফলে, ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে।

বাংলাদেশে ১৯টি জেলা ফাইলোরিয়া রোগপ্রবণ ছিল। মোট ১৫টি জেলায় প্রাথমিকভাবে এ রোগ নির্মূল করা হয়েছে। বাকি ৪টি জেলায় এ বছর ফাইলোরিয়া নির্মূল হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে শান্তিচূক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করার। কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে।

বান্দরবান থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদূর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য