ইদলিব প্রশ্নে তুরস্ক ও রাশিয়ার সমঝোতা, স্বাগত জানালো ইরানসিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে তুরস্ক ও রাশিয়া। ইদলিব অঞ্চলে নতুন একটি অ-সামরিকীকৃত এলাকা ঘোষণার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে তারা। তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যকার এ সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। লেবাননের আল-মায়াদিন টিভিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে।

ইদলিব সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি। বিগত কয়েক মাসে সামরিক হামলা জোরালো করার মধ্য দিয়ে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে আসাদ বিদ্রোহীদের সরিয়ে দেওয়া হলে তারা ইদলিব প্রদেশে জড়ো হয়। ২০১৫ সাল থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বিদ্রোহীরা।

তবে দৃশ্যত ভয়াবহ বিমান হামলার মাধ্যমে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে যাচ্ছে রাশিয়ার মিত্র আসাদ বাহিনী। ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই পুরো সিরিয়ার ওপর আসাদ বাহিনীর কর্তৃত্ব দেখতে চায়। বিপরীতে আসাদ বাহিনীর হামলা থেকে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষার ওপর জোর দেয় তুরস্ক।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার পর্যটন নগরী সোচিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বৈঠকে ইদলিব অঞ্চলে রুশ ও তুর্কি সেনাদের মধ্যে একটি অসামরিকীকৃত অঞ্চল ঘোষণার ব্যাপারে দুই নেতার মধ্যে সমঝোতা হয়। এ সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ স্বাগত বার্তা দেওয়া হয়।

বৈঠকের আগে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা এই অঞ্চলের জন্য আশা হয়ে উঠেছে। তার মতে, রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোতে মতবিনিয়ম দুই দেশকেই শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শুধু আমাদের অঞ্চলই নয়, গোটা বিশ্বের চোখ এখন সোচির দিকে।’ তিনি দাবি করেন, সোচির আলোচনার ফলাফল এই অঞ্চলের জন্য নতুন আশা জাগাবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, তুর্কি-রুশ সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে উন্নতি করছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা ব্যাপক মাত্রায় বাড়ছে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে।’ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তুরস্ক-রাশিয়ার সম্পর্ক, অর্থনীতি ও জ্বালানি ইস্যুসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতেও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়া ইস্যু এই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পায়।

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে তিন লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য