পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া বাঙালি ও আফগানদের সে দেশের নাগরিকত্ব প্রদানের ঘোষণার বিরোধিতা করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাঈদ গনি। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইমরান খানের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। নাগরিকত্ব না দিয়ে শরণার্থীদের জন্য ইমরানকে নিজের বাড়ির দরজা খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাঈদ গনি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে লাখ লাখ বাঙালি শরণার্থী বাস করেন। এদের অনেকেরই জন্ম পাকিস্তানে। রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) করাচিতে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা দেন, পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া বাঙালি ও আফগান শরণার্থীদের সন্তানরা সে দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ পাবেন। ইমরান বলেন, ‘করাচিতে সন্ত্রাসবাদ ও টার্গেট কিলিং কমেছে কিন্তু সেখানকার সড়কের অপরাধ বাড়ার পেছনে একটি বড় কারণ রয়েছে। এটা অবহেলিত। তারা অশিক্ষিত ও বেকার। তারা পাকিস্তানে বাসকারী বাঙালি ও আফগান।’

ইমরান বলেন, এই অভিবাসীরা এখানে দশকের পর দশক ধরে বাস করছেন। এখানে তাদের সন্তানরা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু তাদের কোনও পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নেই। পরিচয় সংকটই হাজার হাজার বাঙালি ও আফগান অভিবাসীকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কোনও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। আর হাজার হাজার অনিবন্ধিত আফগান ও বাংলাদেশি এই শহরে বাস করছেন।

পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট না থাকায় এই অবহেলিত শ্রেণিটি কোনও কাজ পাচ্ছে না। তাই আমাদের সরকার তাদের কম্পিউটারাইজড জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ইমরান খান বলেন, ‘যেসব আফগান ও বাংলাদেশি শরণার্থী পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট পাবে।’

ইমরানের এ ঘোষণায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাঈদ গনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মধ্যে যদি আফগান ও বাঙালি শরণার্থীদের সন্তানদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে থাকে তাহলে তিনি ‘বনি গালা’ এলাকার নিজের বাড়ির দরজা তাদের জন্য খুলে দিতে পারেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডে’র খবরে বলা হয়, করাচিতে কয়েক দশক ধরে বাঙালি সম্প্রদায়ের লোকজন বাস করে আসছে। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানে থেকে যেতে চেয়েছে। পাকিস্তানে অবস্থানরত বাঙালিদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানি বাঙালিদের সংগঠন ‘পাক মুসলিম অ্যালায়েন্স’র অনানুষ্ঠানিক এক জরিপ হয়েছে। ওই জরিপ অনুসারে, সেখানে প্রায় ২০ লাখ বাঙালি রয়েছে। করাচি শহরের ওরাঙ্গি টাউন, ইব্রাহিম হায়দারি, বিলাল কলোনি, জিয়াউল হক কলোনি, মুসা কলোনি, মাছার কলোনি ও লিয়ারির বাঙালিপাড়ায় এসব বাঙালি বাস করেন। পাকিস্তানে ২০ লাখ বাঙালি ছাড়াও আজাদ কাশ্মিরসহ বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় ১৫ লাখ নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য