ফিলিপিন্সে আঘাত হানলো সুপার টাইফুন মাংখুটচলতি বছর বিশ্বজুড়ে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় সুপার টাইফুন মাংখুট দমকা বাতাস ও তুমুল বৃষ্টিসহ ফিলিপিন্সের উত্তর উপকূলে আছড়ে পড়েছে

শনিবার ভোরের আগেই পাঁচ মাত্রার এ ঝড়ে দেশটির লুজন আইল্যান্ডের বিভিন্ন বাড়িঘরের জানালা চুরমার হয়ে গেছে ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। কেই হতাহত হয়েছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তাও নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

বিবিসি বলছে, ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে অগ্রসর হওয়া মাংখুটের পথে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের বাস। বাতাসের এ বেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩৩০ কিলোমিটার হতে পারে বলেও আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন।

২০ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে শঙ্কায় লাখো মানুষকে এরই মধ্যে ফিলিপিন্সের উত্তর উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ‘ওমপাং’ নামে পরিচিতি পাওয়া টাইফুন মাংখুটে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ‘ভয়াবহ ক্ষতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। ঝড়ের কারণে কাগায়ান, নর্দার্ন ইসাবেলা, আপাইয়াও ও আব্রা প্র্রদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চার নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

২০১৩ সালে ফিলিপিন্সে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতি সুপার টাইফুন হাইয়ানের সময়ও চার নম্বর সতর্কতা জারি হয়েছিল।

শনিবার ভোরের আগে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ফিলিপিন্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাগাওতে মাংখুট আঘাত হানে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এটি ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে।

“শক্তির বিবেচনায় টাইফুন মাংখুট হচ্ছে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়,” বলেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

ঝড়টি ক্রমাগতভাবে পশ্চিমদিকে সরে যাবে বলেও পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে, এটি রোববার বিকালেল মধ্যে হংকং অতিক্রম করে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঝড় ধেয়ে আসায় হংকংয়ের কর্তৃপক্ষও বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর থাকার পরামর্শ দিয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই ঝড়টি দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঝড়ের কারণে ফিলিপিন্সের নৌ ও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তুমুল বৃষ্টি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও বন্যা নিয়ে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

“আমরা সত্যিই খুব আতঙ্কিত, তারা (কর্তৃপক্ষ) বলছে এটা খুবই শক্তিশালী, যে কারণে আমরা ভয় পাচ্ছি। আগের বর্ষাকালেও আমাদের অর্ধেকের বেশি ঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে আমি আমার নাতি-নাতনিদেরও (আশ্রয়কেন্দ্রে) নিয়ে এসেছি,” বলেছেন ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসা ডেলাইলা পাসিওন।

টাইফুন মাংখুট রোববার শেষ বেলায় কিংবা সোমবার ভোরের দিকে চীনে আঘাত হানতে পারে বলেও পূর্বাভাসে ধারণা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সতর্কতার মাত্রা ‘হলুদ’-এ উন্নীত করেছে। চীনের চার মাত্রার সতর্কতা ব্যবস্থাপনায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুত-গতির ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও চীনা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য