সাঘাটার সড়কে চলছে মরণঘাতি কাকরা ও শ্যালো চালিত ট্রলিগাইবান্ধার সাঘাটায় অবাধে চলছে মরণঘাতি কাকরা ও শ্যালো চালিত ট্রলি। নিয়ন্ত্রন না থাকায় দ্রুত গতিতে এসব চলাচল করায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। ব্রেক, হর্ণ ও ফিটনেস বিহীন এসব যান উপজেলা শহর সহ সকল রাস্তায় চলছে। কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই বালু শ্রমিকরাই চালাচ্ছে এই যান।

উপজেলার ১০ ইউনিয়নে বাধাহীন ভাবে চলছে অন্তত ৫০টি কাকরা ও শতাধিক ট্রলি। বেপরোয়া গতিতে চলাচলে গত তিন মাসে দেড় শ’ দুর্ঘটনায় ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৫ জন। আহত হয়েছে অন্তত ১২০ জন।

গত তিনমাসে কাকরার চাপায় ও ট্রলির সংঘর্ষে সাঘাটা-ঝাড়াবর্ষা সড়কে শগুনা গ্রামের রানী বেগম, পুটিমারি সড়কে সাদ্দাম, বোনারপাড়া-মাল্লাপাড়া রাস্তায় দুর্গাপুর গ্রামের আনিছুর রহমান ও সাঘাটা-গাইবান্ধা সড়কে দই ব্যবসায়ী মামা ভাগনে সজিব ঘোষ ও নর উত্তম প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে পুটিমারি গ্রামের বিপুল মিয়া, ঘুড়িদহ গ্রামের লালমিয়া, জুমারবাড়ির গৌড় সাহা, তেলিয়ান গ্রামের জাহিদুল, বারকোনার আতাউর রহমান, হলদিয়ার আব্দুর রহমান সহ অন্তত ১২০ জন।

উপজেলার প্রতিটি রাস্তায় চলাচলকারী এসব বালু বোঝাই (ট্রাক্টর) কাকরা ও শ্যালো চালিত ট্রলি অতিষ্ট করে তুলেছে এলাকার লোকজনকে। লোডিং ক্ষমতার দ্বিগুন বেশি বোঝাই নিয়ে শব্দ দুষণ করে চলছে এসব যান। যে কেউ এসব কিনে চালক বনে যাচ্ছে। যাদের বেশির ভাগই বালু শ্রমিক। নুন্যতম কোন প্রশিক্ষণ ইে তাদের। এদের মধ্যে শিশু চালকও রয়েছে।

উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের রিয়াল হাসান ও বাটি গ্রামের সাবু মিয়া জানান, কাকরা ও শ্যালো চালিত ট্রলির তান্ডবে রাস্তায় হেটে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তা হেটে চলার দিন যেন শেষ হয়ে গেছে। হাটলেই এদের কবলে পড়ে দুর্ঘটনার ভয় হয় বলে জানালেন, বোনারপাড়া গ্রামের জিয়াউল করিম আকন্দ।

ভুক্তভোগিরা জানান, বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। রাস্তাগুলোতে যত্রতত্র মালামাল ও যাত্রী বোঝাই ট্রলি ও ভটভটি চলাচল করায় বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে সবচেয়ে বেশি দু:শ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এসব যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে সহজ হওয়ায় দ্রুত গতিতে চলাচল করতে গিয়ে রাস্তা পারাপার কিংবা মোড় ঘুরতে পথচারিরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কথা হলে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এসব যানবাহন বন্ধে অভিযান পরিচালনা চলছে। প্রতিনিয়তই চেকপোষ্ট বসানো হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য