11 21 18

বুধবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Home - আন্তর্জাতিক - থাইল্যান্ডে পুলিশি বাধায় রোহিঙ্গাবিষয়ক আলোচনা সভা পণ্ড

থাইল্যান্ডে পুলিশি বাধায় রোহিঙ্গাবিষয়ক আলোচনা সভা পণ্ড

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে থাইল্যান্ডে আয়োজিত একটি আলোচনা সভা রুখে দিয়েছে থাই পুলিশ। থাইল্যান্ডে নিয়োজিত বিদেশি সাংবাদিকরা ওই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলেন। রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

App DinajpurNews Gif

গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। গত মাসে জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।

থাইল্যান্ডের স্থানীয় সময় সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেদেশের ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিচার নিয়েই সেখানে আলোচনার কথা ছিল। তবে সে সভা শুরু হওয়ার আগেই সভাস্থলে হানা দেয় এক দল পুলিশ। আলোচকদেরকে কথা না বলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পণ্ড হয়ে যায় সভা। ব্যাংকক পুলিশ আয়োজকদেরকে একটি চিঠিও হস্তান্তর করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই আলোচনা সভা বাতিল করা হচ্ছে। দাবি করা হয়, এ সভার কারণে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তৃতীয় পক্ষ অস্থিরতা তৈরির সুযোগ পাবে।

ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ডমিনিক ফল্ডার এ ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সভা বাতিল করা ছাড়া তার আর কোনও উপায় ছিল না।

রোহিঙ্গাবিষয়ক ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী তুন খিন, সাবেক থাই কূটনীতিক কবসাক চুটিকুল ও মানবাধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস-এর প্রতিনিধি কিংসলে অ্যাবট-এর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল ওই সভায়।

থাইল্যান্ডের সেনাশাসিত সরকারের এমন আচরণে ক্ষোভ জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস-এর আইনি উপদেষ্টা অ্যাবট। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এবং আসিয়ান জোটের সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে থাইল্যান্ডের উচিত এ পরিস্থিতি (রোহিঙ্গা) মোকাবিলায় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করা।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য