নতুন হলের সিট না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভআব্দুল মান্নান,হাবিপ্রবিঃ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সিট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ছাত্র হলের গণরুমে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা।

১৪ই মার্চ ২০১৮ তে নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সিট বরাদ্দ দেয়া হবে এ মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ ও তদপূর্ব শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত সময় বেঁধে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। অতপর দীর্ঘ ৫ মাস পর, ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের হলে ঊঠানোর ঘোষণা দিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ হলে সিট প্রাপ্যদের একটা তালিকা প্রকাশ করে।

সেই তালিকায় ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রাধান্য পেলেও ১৩,১৪,১৫ তম ব্যাচ ও গণরুমের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দেয়া হয়নি। এ নিয়ে কয়েকজন ছাত্র সিট বানিজ্য ও সিট বন্টনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আল আমিন ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেন,দুই বছর হলের গণরুমের বসবাস অযোগ্য জায়গায় পড়ে থাকার পিছনে একটাই আশা একটি রুম পাবো।তারপর হলে সিট পেয়ে অন্তত বাকী দিনগুলো ভাল কাটবে,পড়াশুনা ভাল ভাবে করা যাবে। নতুন হল খোলা হলো, সিট বন্টনের তালিকা দেয়া হলো সেখানে ফাস্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, মেসের ছেলেরা তালিকায় আসলো।

অথচ দুই বছর ধরে গণরুমে মানবেতর জীবন কাটানো ছেলেরা প্রশাসনের নজরে আসলো না ,তাদের নাম তালিকায় আসলো না। সাবাস প্রশাসন,সাবাস হাবিপ্রবি। রাফিয়া সুলতানা নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে সিটবানিজ্য নিয়ে লিখেছেন, যারাই করে নোংরামি তারাই করে প্রতিবাদ।

সিট নিয়ে বানিজ্যের ব্যাপারে রিয়াদ নামের একছাত্র নেতা লিখেছেন,টাকা নিয়ে হলে সিট দেয়ার কিছু খোঁজ খবর পাওয়া গেছে ইতোমধ্যে। যে সকল নামধারী নেতা, পাতি নেতা হলে উঠানোর জন্য টাকা নিয়ে ধান্দাবাজি করছেন। কোন প্রকার সংকোচ না করে নির্ভয়ে আপনারা তাদের প্রতিহত করুন।

কেউ ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে এমন অসততার কাজ করলে তার দায়ভার সংগঠন নিবে না, প্রয়োজনে তাদের নাম সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিহিত করুন। আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে ছিলাম, আছি,  থাকব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, ওদের দুই গ্রুপকেই সমান ভাবে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গণরুম ও ছাত্র রাজনিতির সাথে জড়িত ছাত্রদের নামের তালিকা আমাদের না দিয়ে থাকলে সেটার জন্য কেন প্রশাসনকে দায়ী থাকবে? তাঁরা যে তালিকা দিয়েছে সেগুলোই আমরা দেয়ার চেষ্টা করেছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য