11 21 18

বুধবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Home - আন্তর্জাতিক - অভিবাসনবিরোধী জোয়ারের মধ্যেই সুইডেনে ভোট

অভিবাসনবিরোধী জোয়ারের মধ্যেই সুইডেনে ভোট

অভিবাসনবিরোধী জোয়ারের মধ্যেই সুইডেনে ভোটসুইডেনে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে অবিভাসনবিরোধী একটি জাতীয়তাবাদী দল বড় ধরনের সাফল্য পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

App DinajpurNews Gif

অভিবাসনবিরোধী জাতীয়তাবাদী দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস (এসডি) এর উত্থানের মধ্যেই রোববারের এ সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছে সুইডেনের নাগরিকরা।

পার্লামেন্টে প্রবেশের আট বছর পর এবারের ভোটে দলটি ২০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে বলে জনমত জরিপগুলোতে ধারণা দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন সোশাল ডেমোক্রেট কিংবা প্রধান বিরোধীদল মধ্য-ডানপন্থিদের কেউই এবারের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

অভিবাসনবিরোধী দল এসডির উত্থানের ব্যাপারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লোফেন সতর্ক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

দলটির বিরুদ্ধে উগ্রবাদীতার অভিযোগ এনেছেন তিনি। এসডিকে ভোট দেওয়া ‘বিপজ্জনক’ হবে বলেও মন্তব্য করেছেন এ সোশাল ডেমোক্রেট নেতা।

সুইডেনের এবারের নির্বাচনী প্রচার অভিবাসন প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই আবির্ভূত হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এসডি এর আগের নির্বাচনে পাওয়া আসনের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি আসনে জিতেছিল। এবারও তারা এখনকার ৪২ আসনের দ্বিগুণ আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“অন্ধকারের শক্তি সুইডেনে সৈন্য সমাবেশ করছে। ঘৃণ্য বাহিনী এখন সুইডেনে সচল হচ্ছে এবং জনগণকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে,” শনিবার শেষ নির্বাচনী সমাবেশে বলেন প্রধানমন্ত্রী লোফেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসডি নেতা জিমি একেসন বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই সুইডেন যতটা চরমপন্থি, অভিবাসনের বেলায় ততটা নয়।

ক্ষমতায় গেলে কম অভিবাসী গ্রহণের যে পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন, ‘বাকি ইউরোপে তা স্বাভাবিক রাজনীতি হিসেবে বিবেচিত হবে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিকাশমান নব্য-নাৎসী ও অন্যান্য কট্টর ডানপন্থি দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা এসডি ২০১০ সালে প্রথম সুইডেনের পার্লামেন্টে আসন পায়।

জ্বলন্ত টর্চের (যুক্তরাজ্যের কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল ফ্রন্টের লোগো) পরিবর্তে সুইডিশ পতাকার নীল-হলুদ রঙের ডেইজি ফুলের লোগোতে স্থানান্তরিত হয়ে দলটি তাদের আগের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঐতিহ্যগতভাবে শ্রমজীবী পুরুষের কাছে বেশি আবেদন থাকলেও দলটি এখন নারী ও উচ্চ আয়ের ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

২০০৫ সাল থেকে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসা একেসন বর্ণবাদের বিষয়ে এসডি ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন।

এ অভিযোগের কারণে বেশ কয়েকজন সদস্যকে বহিষ্কার করলেও দলটির বিরুদ্ধে বর্ণবাদের বেশকটি অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে।

পৌরসভা নির্বাচনে দলটির এক প্রার্থী সম্প্রতি ফেইসবুকে এমন একটি গান আপলোড করেছেন, যার কথায় ‘সুইডিশরা সাদা, এ দেশ আমাদের’ আছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টেবলয়েড আফতোনব্লাদেত।

সুইডেনের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলেও ২০১৫ সালের পর থেকে আসা অভিবাসীদের ঢেউ গৃহায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক খাতগুলোতে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ভোটারদের উদ্বেগ বেড়েছে।

চলতি বছর সুইডেন রেকর্ড সংখ্যক এক লাখ ৬৩ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে গ্রহণ করেছে- মাথাপিছু জনসংখ্যা বিবেচনায় যা ইউরোপের ভেতর সর্বোচ্চ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য