জর্ডানের বাদশাহকে সেনা সহায়তার প্রস্তাব ফিলিপিনো প্রেসিডেন্টেরফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুয়ার্তে জঙ্গি দমনে জর্ডানকে সেনা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। দুই দেশই ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে উদ্বিগ্ন। জঙ্গি দমনে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ ও ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, জর্ডান যেমন মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আন্তর্জাতিক জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, ফিলিপাইন তেমনি নিজ দেশে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয় করেছে। ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের পাঁচ মাস ধরে ফিলিপাইনের একটি শহর দখল করে রাখা ও তার উদ্ধারে ফিলিপাইনের সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে ঘটা ‘সবচেয়ে বড় সহিংসতা’ আখ্যা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে। দুই দেশ একই ‘শয়তানের’ কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছে, বাদশাহ এমন মন্তব্য করলে তার জবাবে দুয়ার্তে বলেছেন, ‘আমরা পক্ষ থেকে কোনও সহায়তা করার থাকলে জানাবেন। আপনার যদি সেনাবল কম থাকে তাহলে আমাকে বলবেন। যদি আপনার এক ব্যাটেলিয়ন সেনাও লাগে, আমাকে জানালে পাঠিয়ে দেবো।’ অন্যদিকে জর্ডান ঘোষণা দিয়েছে, জঙ্গি দমনে তারা ফিলিপাইনকে দুইটি কোবরা অ্যাটাক হেলিকপ্টার দেবে ।

রয়টার্স লিখেছে জর্ডানের বাদশাহ মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা শক্তিগুলোর নির্ভরযোগ্য এক সহযোগী। ইসলামি স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব পরিচালিত যুদ্ধে সামরিক, কৌশলগত ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করে আসছে জর্ডান।

অন্যদিকে ফিলিপাইনে একদিকে যেমন রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রভাব অন্যদিকে তেমন ইসলামি জঙ্গিদের বিস্তার। অবশ্য মাদক ব্যবসায়ী নির্মূলে দুয়ার্তের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের বক্তব্য, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে দেশটিতে। এমন সমালোচনার ভেতরেই দেশটিকে মুখোমুখি হতে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঘটা সবচেয় বড় সহিংসতার। দেশটির মিন্দাও প্রদেশে ইসলামি সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে দুয়ার্তেকে জরুরি অবস্থাও জারি করতে হয়েছিল।

দুয়ার্তে ছয় দিনের সফরে বের হয়েছেন। জর্ডানের পাশাপাশি ইসরায়েলে সফর করেছেন তিনি। সেখানে ছোট অস্ত্র, সামরিক যান এবং নজরদারি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য