রাজারহাটে বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে, এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টিকুড়িগ্রামের রাজারহাটে বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। এঘটনায় এলাকায় দারুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চাকিরপশার তালুক জোলাপাড়া গ্রামে।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। প্রচন্ড তাপদাহে এ অঞ্চলের মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠে। এমনকি বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা স্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প ব্যবহার করে আমন ধানের চারা রোপন করেন।

প্রখর রোদ্রের কারণে শিশু-বয়বৃদ্ধরা সদ্ধি-জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। দিবা-রাত্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষজন বিশেষ কাজকর্ম ছাড়া বাইরে বের হয় না। অফিস গুলোতেও মানুষজনের তেমন ভিড় নেই। বিদ্যুতের লোডশেডিং হলে মানুষ আরো অতিষ্ট হয়ে উঠে।

পাড়ায়-মহল্লায় মানুষ একটু স্বস্তির জন্য গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেন। প্রখর খরায় আমন ধানের লাগানো ক্ষেত ফেঁটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। শাক-সবজির ক্ষেতও প্রচন্ড রোদ্রের তাপে পুড়ে মরে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে আকাশ মেঘলা করলে স্বস্তি এলেও নেই বৃষ্টি। অনাবৃষ্টির কারণে খাল-বিল পানি শুন্য হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।

খাল-বিলের মাছ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। ঠিক সেই মুহুর্তে রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চাকিরপশার তালুক জোলাপাড়া (হিন্দুপাড়া) গ্রামের গৃহবধুরা বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে।

ওইদিন দপুরে বিষাদুর বাড়ীর উঠানে হিন্দুশাস্ত্রীয় মতে দু’টি ব্যাঙ ধরে নিয়ে এসে বর-কনে সাজিয়ে রাখে। ওই উঠানে কলারগাছ পুঁতে মারোয়া সাজিয়ে ধুমধাম করে ব্যাঙ দু’টির বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় কেউ কেউ বর-কনের আত্মীয় হয়ে রীতিমতো ব্রাক্ষণ দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করে।

পরে বর-কনেকে নিয়ে গ্রামবাসীরা নগর পরিভ্রমণ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত দশণার্থী ব্যাঙের বিয়ে দেখতে ওই এলাকায় ভিড় জমায়। বিয়েতে বর ও কনের আইয়ো বৈরাতি সেজেছেন ওই এলাকার সূবর্ণা রানী ও বীথি রানী। বিয়ের পরে উপস্থিত দশনার্থী ও উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজনদের ভূড়িভোজের আয়োজন করা হয়।

বিয়ের সম্পূর্ণ আয়োজন করেন বীরেন্দ্র নাথ রায়ের স্ত্রী প্রমোবালা দেবী। এব্যাপারে ওই এলাকায় বিয়ের সময় এ প্রতিবেদক উপস্থিত হলে প্রমোবালা দেবী বলেন, অতি খরা(অনাবৃষ্টি) হলে ব্যাঙের বিয়ে দিতে হয়। ব্যাঙের বিয়ে দিলে ঝড়ি(বৃষ্টি) হয়। আগের দিনের লোকজন প্রায় ব্যাঙের বিয়ে দিতো।

এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমিও জোলাপাড়ার হিন্দু পাড়ায় ব্যাঙের বিয়ের বিষয়টি শুনেছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য