গোবিন্দগঞ্জে আন্তজার্তিক অজ্ঞান পার্টির মুলহোতা গোলজারের বিরুদ্ধে পুত্রবধু হত্যার অভিযোগআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আন্তজার্তিক অজ্ঞান পাটির গ্যাংলিডার গোলজার রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে পুত্রবধু রোজিনা হত্যার অভিযোগ থানায় থাকলেও পুলিশ বলছে ওয়ারেন্ট মূলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অজ্ঞান পার্টির এই গ্যাংলিডার গ্রেফতার হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ীমহলে স্বর্তি প্রকাশ করছে।

তবে এখন দেখার বিষয় প্রশাসন কি করে? অজ্ঞান পার্টির লিডারের বাড়ী উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হওয়ায় এর বিস্তার অনেক। এ চক্রটি মানুষের সাথে মুহুতেই মিশে যেয়ে খাদ্যদ্রব্যের সাথে পয়জন মিশিয়ে খাওয়ায় এবং এক প্রকার মেডিশিন দ্বারা অজ্ঞান করে প্রায়ই দুরপাল্লার বাস যাত্রীদের সর্বস্ব লূট করে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার সীমান্ত এড়িয়ায় ফেলে রেখে চলে যায়। এতে অনেকের প্রাণহানিও ঘটে।

হাতেনাতে ধরা না পড়ায় এবং স্বাক্ষী প্রমান না থাকায় আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে এসে আবারও তারা মানুষের সর্বস্ব লূটের কাজে নেমে পড়ে। এদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মামলা রয়েছে। শুধু এই গোলজার রহমানেই নয়। তার অপরিবর্তে যাতে মানুষের সর্বস্ব লূট করে নিতে পারে এর জন্য নিজের বড় পুত্র সন্তান আলম মিয়া (৪০) কে এ চক্রের লিডার বানিয়েছেন।

এরা যখন পুলিশের হাতে ধরা খায়, তখন কৌশলে নিজের প্রকৃত নাম ঠিকানা পরিবর্তন করে ভূয়া নাম ঠিকান ব্যবহার করে জামিনে মুক্ত হয়ে এসে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মলম পাটির ব্যবসা দেদারছে চালিয়ে যায়। অজ্ঞান পাটি, মলম পাটি ও পয়জন পাটির লিডার গোলজার রহমানের বাড়ী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের মাদারদহ (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামে।

এই গ্রামের মানুষ তাদের অপকর্মের জন্য একাট্টা হয়ে তাদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। এর পর তারা মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় (পাছাপড়া) গ্রামে এসে বিলাশ বহুল বাড়ী করে বসবাস করছে। সেই বাড়ীতে গত ২২ জুলাই রাত অনুমান নয়টার দিকে তার দ্বিতীয় পুত্র আনোয়ার হোসেন আকন্দ (৩৬) এর স্ত্রী মোছা: রোজিনা বেগমকে বে-ধরক মারপিট করে পয়জন খাওয়ায়।

এতে রোজিনা বেগম গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। লোক মারফত রোজিনার মা ও ছোট ভাইয়েরা সংবাদ পেয়ে তাকে ওই রাতেই উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়।

কতব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষনিক বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রিফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই রাত অনুমান ৪ ঘটিকার সময় রোজিনা বেগম মৃত্যুবরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে লাশের দাফন সম্পন্ন হয়।

২৫ জুলাই রোজিনার মা মোছা: অজেদা বেওয়া আন্তজার্তিক অজ্ঞান পার্টির গ্যাংলিডার ওই গ্রামের গোলজার রহমানের পুত্র আনোয়ার হোসেন (৩৬), মৃত-ইছাহাক আকন্দের পুত্র গোলজার রহমান (৬৫), গোলজার রহমানের বড় পুত্র অজ্ঞান পার্টির অন্যতম লিডার আলম আকন্দ ও তার স্ত্রী মোছাঃ পপি বেগম (২৮) কে আসামী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করে ছিল বলে জানায় অজেদা বেওয়ার পুত্র ও নিহত রোজিনার ছোট ভাই মানিক মিয়া।

ওই এজাহারটি দীর্ঘ ১ মাস পেরিয়ে গেলেও আলোর মূখ না দেখায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর নতুন ভাবে একই এজাহার আবারও থানায় দায়ের করা হয়। এজাহারটি আমলে নিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিককে দায়িত্ব দেন। সেই এজাহারের প্রেক্ষিতে দায়িত্বরত ওই এস আই ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে সরেজমিন তদন্ত করেন।

এদিকে ৬ জুলাই এজাহারটি মামলায় রুপ দেয়ার জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানার দেখভালর দায়িত্বরত জেলার সিনিয়র এএসপি (সি-সার্কেল) রেজিনুর রহমানের সরাপন্ন হন। এতে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসি গোবিন্দগঞ্জকে নির্দেশ দেন। এ দিকে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে পাচগছি বাজার থেকে আন্তজার্তিক অজ্ঞান পার্টি, মলম পাটি ও পয়জন পার্টির গ্যাংলিডার গোলজার রহমানকে ওই এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক গ্রেফতার করেন।

আবার ওই দিন সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্তে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাই বগুড়া সদর থানার এরুলিয়া গ্রামের মোঃ ছাদেক আলীর পুত্র আসলাম (২৫)। অজ্ঞান পার্টির লোকজন তাকে গোবিন্দগঞ্জ হিরক সিনেমা মোড়ে তেলের পাম্পের সামনে বাসথেকে নেমে দিয়ে সটকে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ রাত অনুমান সাড়ে ৯টার দিকে আসলামকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যেয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেয়।

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের সন্দেহের তীর অজ্ঞান পার্টির গ্যাংলিডার গোলজার রহমানের দিকে। তিনি নিজেই এ কাজ করেছেন। গোলজার রহমানের এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা যায়, তিনি এলাকায় ছিলেন না। ওই দিন সন্ধ্যার পর সে ঢাকা থেকে তার নিজ বাড়ী পাচগছি বাজারে এসে নামে। গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ গোলজার রহমানকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

গোলজার রহমানের পুত্রবধু রোজিনা হত্যার অভিযোগ ও গ্রেফতারের বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার দায়িত্বরত এস আই আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, পূর্বের মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুত্রবধূ রোজিনার লাশের ময়না তদন্ত যেহেতু বগুড়ায় হয়েছে ও সেখানে একটি ইউডি মামলা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য