Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
09 23 18

রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১২ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Home - আন্তর্জাতিক - সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারত

সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারত

সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারতঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারি আইনের একটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে ভারতে সমকামিতার অধিকারকে বৈধতা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

App DinajpurNews Gif

বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক এই রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ বলেছে, সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করার ওই আইন এখন অযৌক্তিক। রাষ্ট্রের সব নাগরিককেই সমান অধিকার দিতে হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণার পর ভারতের বিভিন্ন অংশে এলজিবিটি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন উদারপন্থি অধিকারকর্মীরাও।

৫৪৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র রায়ে বলেছেন, কেউ তার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যকে এড়িয়ে যেতে পারে না। এখনকার সমাজ ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের প্রশ্নে অনেক বেশি অনুকূল।

“ভারতের সংবিধান একজন সাধারণ নাগরিককে যেসব অধিকার দেয়, তার সবগুলোই এলজিবিটি কমিউনিটির প্রাপ্য।”

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশে ফৌজদারি আইন হিসেবে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকারের তৈরি করা দণ্ডবিধিই প্রয়োজনমত বদলে নিয়ে চালু রাখা হয়েছে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে’ গিয়ে কেউ পুরুষ, নারী বা জন্তুর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছরের জেল হতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে জরিমানা।

বাংলাদেশের ফৌজদারি দণ্ডবিধিতেও একই ধারায় মোটামুটি একই ভাষায় একই শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশেও সমকামিতা দণ্ডনীয় অপরাধ বিবেচনা করা হয়।

ওই আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে ভারতের এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার) অধিকার সংগঠনগুলো বলে আসছিল, বিশ্বের ৭৪টি দেশ যেখানে সমকামিতাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে ৩৭৭ ধারায় তাদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ২০০৯ সালে দিল্লি হাই কোর্ট এক রায়ে ৩৭৭ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। সেখানে বলা হয়, কেবল অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনসংসর্গের ক্ষেত্রে ওই আইন প্রয়োগ করা যাবে।

কিন্তু কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠনের আপিলে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের সেই রায় খারিজ করে দেয়। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, সরকার চাইলে আইন বাতিল বা নতুন আইন তৈরি করতে পারে।

এর তিন বছরের মাথায় শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী নভতেজ সিং জোহর, ম্যাক্সিম ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণের সম্পাদক সুনীল মেহরা, বিখ্যাত শেফ রীতু ডালমিয়া, ব্যবসায়ী আমন নাথ এবং অভিনেত্রী আয়েষা কাপুর নতুন একটি পিটিশন নিয়ে যান ভারতের সুপ্রিম কোর্টে।

সেখানে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার কারণে এলজিবিটি জনগোষ্ঠী স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ভারতীয় পত্রিকাগুলো বলছে, নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারা নিয়ে এই মামলায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়নি। সরকারের অবস্থান জানাতে আদালতে বার বার সময় চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু পার্লামেন্টে ৩৭৭ ধারা বাতিলের বিল আনতে চাইলে বিজেপি সে বিষয়ে আলোচনাই করতে দেয়নি।