ঠাকুরগাঁওয়ে গর্ভবতী নীলগাই উদ্ধার আহত দুইঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার সদর ও রানীশংকৈল উপজেলার সীমান্তে কুলিক নদীতে পারাপার হাওয়ার সময় একটি নীলগাই আটক করে স্থানীয় জাহিদ, মকবুল, বুধুসহ কয়েজন যুবক।

পরে জহিদের বাড়িতে যদুয়ার এলাকায় নিয়ে রাখা হয় নীলগাইটিকে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টা সময় সদর উপজেলার পটুয়া এলাকায় পথচারীরা নীলগাইটিকে ধাওয়া দিলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৌড়ে যদুয়ার কুলিক নদী পারাপারের সময় নদীতে জাহিদ, বুধু, মকবুলসহ অর্ধ শতাধিক এলাকাবাসী পানিতে নীলগাইটিকে আটকের চেস্টা করলে বুধু ও মকবুল আহত হয়। পরে অনেক কষ্টে নীলগাইটিকে উদ্ধার করে দ্রুত নাক ফড়িয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে।

পরে খবর পেলে বন বিভাগের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, রাণীশংকৈল থানা পুলিশ উপস্থিত হয়।

জাহিদের ভাই আবুবক্কর কোন অবস্থাতে নীলগাইটিকে হস্তান্তর করতে না চায়লে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা উদ্ধার স্থানে উপস্থিত হয়ে আবু বক্করকে বুঝিয়ে নীলগাইটি উদ্ধার করে জাতীয় উদ্যানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে নীলগাইটিকে যদুয়ার এলাকা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় উদ্যানে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নীলগাই উদ্ধার কারী জাহিদ বলেন, দ্রুতগতীতে আসা নীলগাইটি যদুয়ার এলাকায় কুলিক নদীর পানিতে পরে গেলে কয়েজন মিলে জীবনের ঝুকি নিয়ে উদ্ধার করে নিরাপদে স্থানে রাখি।

নীলগাইটি দীর্ঘদিন ধরে থাকা জঙ্গলের মালিক সদর উপজেলার পটুয়া ফকদরপুর এলাকার আকরাম বলেন, নীলগাইটি প্রায় ৩-৪ মাস ধরে ভুট্রার ক্ষেতে নীলগাইটি ছিল। এখন ভুট্রা না থাকায় আমার জঙ্গলে ও আখঁ ক্ষেতে বসবাস করছিল। জঙ্গলের পাশে ধান ফসল নষ্ট করলে আজ কয়েজন মিলে নীলগায়টিকে ধাওয়াদিলে নীলগাইটি পালিয়ে যায়।

ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে নীলগাইটি দিনাজপুর জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে নীলগাইটিকে রাখা হয়েছে। নীলগাইটির যেন কোন প্রকার সমস্যা না হয় সে দিকে বিশেষ লক্ষ রাখা হচ্ছে।

ঠাকুরাগাঁও জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান বলেন, নীলগাইটি এলাকাবাসী আটক করার সময় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পরে। ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় উদ্ধারকৃত নীলগায়টি চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর জাতীয়
উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। নীলগাইটি সুস্থ্য হলে কথায় পাঠালে ভাল হয় বন বিভাগের সাথে আলোচনা করে সীদ্ধান্ত নেওয়া হবে ।

উল্লেখ্য নীলগাইটি ৩-৪ মাস ধরে সদর উপজেলার রহিমানপুর পটুয়া এলাকায় বসবাস করছিল। স্থানীয়দের ধারণা নীলগাইটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এলাবাসীর ফসল নষ্ট করলে পাহারাদিয়ে নীলগাই চিনতে পারে। কিন্তু অনেক চেস্টা করেও কোন ভাবেও নীলগাইটিকে আটক করতে পারেনি এলাবাসী।

নীলগাইটির ওলান থেকে আঠা ও পেটে হাত দিয়ে বাচ্চার মত নরাচড়া দেখে নীলগাইটি গর্ভবতী বলে ধারনা করে এলাকাসী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য