রংপুর চিড়িয়াখানায় রাখা হলো জালে ধরা পড়া ডলফিনটিকুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীতে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল চারটা নাগাদ মৎস্য আহরণে ব্যস্ত কয়েকজন জেলের জালে হঠাৎ করে ধরা পরে ডলফিনটি। বাড়তি আয়ের আশায় তা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে কয়েকজন উৎসুক যুবক ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে নেন সেই ডলফিন। এরপর তা এলাকাবাসীকে দেখানোর জন্য নেওয়া হয় রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ছিনাই বাজারে।

ধরলায় ধরা পড়া ডলফিন বাজারে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং যেকোনও মুহূর্তে তা কেটে ফেলা হতে পারে এমন খবরে তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল হক প্রধান। উদ্দেশ্য,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এ প্রাণিকে সংরক্ষণ করা।

ছিনাই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সোবহান আলী ব্যাপারী জানান, মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় ইউএনও ছিনাই বাজারে উপস্থিত হয়ে ডলফিন ক্রয়কারী যুবকদের বুঝিয়ে ডলফিনটি দ্রুত পানিতে রাখার ব্যবস্থা করেন। পরে এক স্থানীয় ব্যক্তির নির্মানাধীন বাড়িতে ঘরের ভেতর গর্ত করে পলিথিন বিছিয়ে পানিতে রাখা হয় ডলফিনটি।

এরই মধ্যে ইউএনও রাশেদুল হক প্রধান যোগাযোগ করেন রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। খবর পেয়ে গাড়ি ও জনবল নিয়ে ছুটে আসেন রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানা কর্তপক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রথমেই ডলফিনটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর ডলফিনটি পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেন। রাত ১২টার দিকে স্থানীয় যুবকরা ডলফিনটিকে কোলে করে রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের গাড়িতে তুলে দেয়। ডলফিনটি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি রংপুর চিড়িয়াখানার উদ্দেশে রওয়ানা হয়।

রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো. জসিম উদ্দিন ডলফিনটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানান, দীর্ঘক্ষণ পানির বাইরে থাকা এবং ভ্যান গাড়িতে করে বেঁধে পরিবহনের ফলে ডলফিনটি দূর্বল হয়ে গেছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টায় এটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্ট করবো।

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাশেদুল হক প্রধান জানান, এটি একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। এমন জলজ প্রাণীদের টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। ডলফিন ধরা পরার খবর পাওয়া মাত্র তা অবমুক্ত করার জন্য আমি নিজে ছুটে এসেছি এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিয়েছি। স্থানীয় যুবকদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, তারা (যুবকরা) জেলেদের হাতে ডলফিনটি কেটে ফেলা থেকে রক্ষা করেছেন এবং সেটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রাথমিকভাবে সুব্যবস্থা নিয়েছেন। তারা যে টাকার বিনিময়ে জেলেদের কাছে ডলফিনটি ক্রয় করেছিল তা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন ইউএনও।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীতে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর (দ্বিতীয় ধরলা সেতু) প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে জেলেদের জালে ধরা পরে প্রায় আড়াই মন ওজনের (একশ কেজি) একটি ডলফিন। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে (২১ জুন) ধরলা নদীতে নির্মল বিশ্বাস নামে এক জেলের জালে দুটি ডলফিন ধরা পড়ে। তথ্য- ইত্তেফাক

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য