রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ব্য্রাকের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২টি ব্লকে ৪০ একর জমিতে সয়াবীন তেল উৎপাদনের জন্য সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে ১০৭ জন কৃষক চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতি একরে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ সহ¯্রাধিক টাকা। এরপরও নির্বিকার রয়েছেন ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ। চাষীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিন প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত হলে ব্র্যাকের অনিয়ম ও দুর্নীতির এসব চিত্র পাওয়া যায়। উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িবিশ্বা ব্লকের ৮৭ জন কৃষক ৩৩ একর জমিতে এবং নোহালী ইউনিয়নের কচুয়া ব্লকে ৫৫ জন কৃষক ২০ একর জমিতে ২০১২ সাল থেকে ব্র্যাকের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বোরো, আমন ও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে আসছেন। বর্তমানে সূর্যমুখী ফুলের বীজ সংগ্রহ ও বোরো রোপণ চলছে কুড়িবিশ্ব ব্লকে। সরজমিন গেলে কৃষক নূরল আমিন (৫৫), আব্দুল লতিফ (৫০), আব্দুল কাদের (৬০), আবুল কালাম আজাদ (৪৫), ফিরোজ মিয়া (৩০), আব্দুর রাজ্জাক শামীম (৩০), আবু বক্কর (৫৫) সহ অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা স্থানীয়ভাবে আলু, গম, ধান, ভুট্টা, তামাক প্রভৃতি চাষ করে বেশ লাভজনক অবস্থায় ছিলাম। কিন্তু গত ১ বছরের অধিক সময় ধরে গঙ্গাচড়ার ব্য্রাক খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির লোকদের বিভিন্ন প্রলোভনীয় উদ্যোগে মেতে বোরো, আমন ও সয়াবিন চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের প্রতারণা ও দুর্নীতির কারণে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাদের কথায় বিশ্বাস করে আমরা চলতি রবি মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ করেছিলাম। তাদের আশ্বাস ছিল, আমাদের বীজ, সার, সেচ পরিচর্যা এসবের খরচ বাবদ একর প্রতি ৮ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে প্রদান করবেন। আমাদের উৎপাদিত সূর্য মুখীর বীজ ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে ক্রয় করবেন। কিন্তু তারা তাদের কোন তথা রাখেনি। কৃষক নূরল আমিন জানান, আমি ব্লকে ৯০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছিলাম। এজন্য ব্র্যাক থেকে আমাকে মোট ৭ হাজার ৬৫০ টাকার সহায়তা এবং প্রযুক্তি প্রদানের কথা থাকলেও আমি মাত্র ২ কেজি বীজ ও ১ হাজার ৯০০ টাকা দিয়েছে মাত্র। যদিও টাকা দেওয়ার কথা ছিল সূর্যমুখী চাষ শুরুর এক দেড় মাসের মধ্যে, কিন্তু টাকা পেয়েছি ৩ মাস পর ফসল কাটার সময়। ব্র্যাক কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা না পাওয়ায় আমরা উপযুক্ত ফলন পাইনি। তাদের দেয়া তথ্য মতে সূর্যমুখীর বীজ পাওয়া যেত একর প্রতি ৩৬ মন পর্যন্ত। কিন্তু আমি ৯০ শতক জমিতে বীজ পেয়েছি মাত্র ৩ মন। বর্তমানে এই বীজ তাদের কাছে বিক্রি করতে চাইলে ১ হাজার ২০০ টাকা মন হিসেবে ক্রয় করতে চান। ফলে আমরা বীজও বিক্রি করতে পারছি না। এ বিষয়ে ব্র্যাক খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির গঙ্গাচড়া শাখার  ব্যবস্থাপক ফারজানা জানান, প্রকল্পটিতে আগে চাষীদের সাপোর্টের পরিমাণ বেশি ছিল বর্তমানে কমিয়ে সূর্যমুখী চাষের জন্য একর প্রতি ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তাই তাদেরকে সে হিসেবেই বীজ ও অন্যান্য খরচের টাকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সয়াবিন চাষ সম্পর্কে অত্র এলাকার চাষীদের ধারণা না থাকায় তারা আমাদের দেয়া নিয়ম অমান্য করে নিজের ইচ্ছে মত চাষ করেছে। তাই ফলন কম হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য