রংপুরে ২০ মাস ধরে বন্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়রংপুর মহানগরীতে ২০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রংপুরের কল্যাণ সংসদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে তিন শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টি প্রায় ২০ মাস বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দরিদ্র অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শরিফুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে কল্যাণ সংসদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ত। হঠাৎ বিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়ায় তার জন্য বিষয়টি বেশ কষ্টকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মোশারফ হোসেন নামে আরেক অভিভাবক জানান, তার ছেলে বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। বর্তমানে দূরের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়েছে। এতে যাতায়াতে অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

কল্যাণ সংসদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের কামাল কাছনা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। সুনামের সঙ্গে চলা এ বিদ্যালয় ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণিতে ৩০, প্রথম শ্রেণিতে ৪০, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ৪০ জনেরও অধিক ছাত্রছাত্রী ছিল।

ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর বিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কামাল কাছনাসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

বিদ্যালয়টি চালু করার জন্য সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিদ্যালয় মাঠে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন অরসরপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কেএম বর্মা। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম, তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা।সভায় কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন ২০১৮ সালের শুরুতে বিদ্যালয়টি চালু হবে। তবে তাদের ঘোষণা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টি চালু হয়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশারাত জাহান বলেন, আমি নতুন। মাত্র যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আগে আমাকে জানতে হবে।

সোমবার রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, বিদ্যালয়টি চালু করার জন্য এলাকাবাসী আবেদন করেছেন। সুুুপারিশসহ আবেদনের চিঠি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে আট মাস আগে। এখন সরকারের নির্দেশ পেলে সেই মোতাবেক বিদ্যালয় খোলার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন জানান, বর্তমানে এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এ এলাকায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩শরও বেশি কোমলমতি শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী দূরের বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য