পাটগ্রামে এলজিইডি’র নারী কর্মীদের ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগআজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অধীন ‘পল্লী সড়ক ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি’ কাজে নিয়োজিত দুস্থ ৮০ নারী কর্মীর ৫ মাসের সঞ্চয়ের ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নারী কর্মীদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ‘কমিটি অর্গানাইজার’ এই টাকা আত্মসাতে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নারী কর্মীরা।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর ও নারী কর্মীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নসহ ৮টি ইউনিয়নের পল্লী সড়ক ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচিতে মোট ৮০ জন দুস্থ নারী কর্মীকে ৪ বছরের জন্য নিয়োগ দেয় উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। কর্মসূচির অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত নারী কর্মীদের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় ৪,৫০০ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার টাকা মাসিক বেতন নগদ হিসেবে কর্মীদের দেওয়া হয়।বাকি ১ হাজার ৫০০ টাকা পাটগ্রাম সোনালী ব্যাংকে নারী কর্মীদের সঞ্চয় হিসাবে জমা রাখা হয়।

তবে নারী কর্মীদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ‘কমিটি অর্গানাইজার’ মো.খয়বর আলী ২০১৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এবং ২০১৭ সালের মে, জুন ও জুলাই মাসসহ মোট পাঁচ মাসের সঞ্চয়ের ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরের বদলে বেতন হিসাবে দেখিয়ে উত্তোলন করে নেন।

এদিকে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল নারী কর্মীদের চাকুরি শেষ হয়। পরে নারী কর্মীরা সঞ্চয়ের টাকা তুলতে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় গেলে টাকা জমা না হওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের দৃষ্টিতেও বিষয়টি ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগী দুস্থ নারী কর্মীদের দলনেত্রী ও বুড়িমারী ইউনিয়ন এলাকার কর্মী শাহিনা আক্তার অভিযোগ করেন, ‘আত্মসাতের বিষয়টি লিখিতভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনকে জানিয়েছি। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ নিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী স্যারকে। এখনও আমরা টাকা পাইনি। আমাদের কষ্টের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে আমরা তাদের বিচার চাই।’

৮০ নারী কর্মীর ৫ মাসের সঞ্চয়ের টাকা নারী কর্মীদের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে জমা না হওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মো. শামসুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘পাটগ্রাম সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে হিসাব নিয়ে দেখা গেছে ২০১৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাসে ৮০ নারী কর্মীর সঞ্চয়ের ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ২০১৭ সালের মে, জুন ও জুলাই এই তিন মাসের ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা নারী কর্মীদের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে টাকা জমা হয়নি। ভুল করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও কমিটি অর্গানাইজার মো. খয়বর আলী। এসব ঠিকঠাক করে নারী কর্মীদের সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা জমা করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।’

সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের পাটগ্রাম শাখা ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন,‘৮০ জন নারী কর্মীর নামে পৃথক ৮০টি সঞ্চয়ী ও ৮০টি বেতনের হিসাব খোলা হয়। এলজিইডির প্রতিনিধি যেভাবে ব্যাংককে নোট দিয়েছেন, আমরাও সেভাবে টাকা পোস্টিং দিয়েছি। ৫ মাসের সঞ্চয়ের টাকাও বেতনের হিসাব নম্বরে জমা করার জন্য নোট দেয় এলজিইডি। আমরা সেই মতে পোস্টিং দিয়েছি। সেই টাকাও তুলে নেওয়া হয়। আমাদের পক্ষ থেকে ভুল হওয়ার কোনো কারণ নেই। নথিপত্র সবকিছুই তাদেরকে দেখানো হয়েছে। এখন বিষয়টি তাদের। আমাদের কিছু করার নেই।’

লালমনিরহাট এলজিইডি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিটি অর্গানাইজার মো. খয়বর আলী ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট বদলি হয়ে যান। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে কর্মরত রয়েছেন। তাকে সেখান থেকে পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরে ফেরত আনার জন্য চিঠি লেখা হয়েছে।

তবে আত্মসাতের বিষয়ে কথা বলতে কমিটি অর্গানাইজার মো. খয়বর আলীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও কথা বলতে রাজি হননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য