সিরাজুল ইসলাম বিজয়, তারাগঞ্জ (রংপুর) থেকেঃ “এ মতন করি আর কত দিন কাদাপানিত বসি কষ্ট করি ব্যবসা করমো। নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান কছিলো ভোট দেও, সমস্যা নাই, এটে পাকা নালা বানে দেমো। কিন্তু এলাও নালা কোনা পাইনো না। এটে কোনা নালা বানাতে আরও কত দিন নাগবে বাহে?”

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট বাজারের মুদি দোকান ব্যবসায়ী আব্দুল বাড়ি গত শনিবার আক্ষেপ করে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন , বাজারের ভিতর দিয়ে যে একটি নালা আছে তাও পরিস্কার করার অভাবে ভর্তি হয়ে আছে। শুধু আব্দুল বাড়ি নন , বুড়িরহাট বাজারে নালার ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে বাজারের অলিগলি ও রাাস্তায় কাদাপানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে বাজারের সবাই ক্ষুব্ধ।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, তারাগঞ্জ হাটের পর সবচেয়ে বড় হাট হচ্ছে বুড়িরহাট বাজার। দীর্ঘদিনেও এ হাটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। পথচারী ও হাটুরেসহ জনসাধারণকে সামান্য বৃষ্টিতে বাজারের অলিগলিতে জমে যাওয়া কাদাপানি দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।

শনিবার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পানিনিষ্কাশনের কোনো নালা নেই । বাজারের অলিগলিগুলো কাদাপানিতে একাকার। মাছের বাজার বসেছে খোলা জায়গায় নোংরা পরিবেশে রাস্তার উপর। হাটটির মাংস বাজারের মাটি তামাটে লাল হয়ে গেছে। নরদমাগুলো রক্তপানিতে একাকার। পচা রক্ত ও নোংরা পানি মাটির দুরগন্ধে ক্রেতা- বিক্রেতা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

এখানে সপ্তাহে তিন দিন রবি, মঙ্গল, ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। বাজার করতে আসা রহিমাপুর গ্রামের লেবু মিয়া বলেন, ১০ বছর ধরে এ বাজারে কোনো উন্নয়ন নেই। বাজার সারা বছরই কাদাপানিতে ভরপুর থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে পুরো বাজারে পানি জমে।

মুদি দোকানদার মোখলেছুর রহমান চেলু মিয়া বলেন, সরকার ইজারাদারের মাধ্যমে হামারটে খালি টোল নেয়, কিন্তুক হাটের কোনো উন্নয়ন করে না। এটে একনা নালা না বানায় হাটের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না করায় হামার দুরগন্ধে ভালোভাবে ব্যবসা করির পাইছি না।

হোটেল ব্যবসায়ী সাদেকুল ইসলাম বলেন, বাজারে শেড নির্মান করা হয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য, কিন্তু বাজারে প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী শেড দখল করে নিজের ইচ্ছা মতো তৈরী করেছে ইট এবং টিন দিয়ে বড় বড় গালামালের দোকান। এজন্য নি¤œ শ্রেণির কিছু খুচরা ব্যবসায়ী দোকান নিয়ে ভির করছে রাস্তার উপর।

সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম মহিউদ্দিন আজম কিরন বলেন, বাজারে নালা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে অলিগলিতে কাদাপানি জমে। এতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বাজারে পানিনিস্কাশনের জন্য নালার ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতে বাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে হাঁটুসমান কাদাপানি জমে। বিশেষ করে বর্ষায় প্রকট আকার ধারণ করে। জনসাধারণের চলাফেরা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ব্যবসায়ীরা তাঁদের কষ্টের কথা আমাকে বলেছেন। এক মাস আগে সরেজমিনে বাজারটির দুরব্যস্থা দেখে এসে সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য