ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থায় মার্কিন সহায়তা বন্ধফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘের গঠিত সংস্থায় আর আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তারা জাতিসংঘের ত্রাণ ও কাজ বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-কে ‘অবিশ্বাস্যরকমের ত্রুটিপূর্ণ’ প্রতিষ্ঠান হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়েছে, জানিয়েছে বিবিসি।

মার্কিন প্রশাসনের মুখপাত্র হিদার নয়ের্ত বলেছেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের বিষয়টি ‘সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা শেষে’ ইউএনআরডব্লিউএ-র তহবিলে আর অর্থ না দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘সংকট সমাধানে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবনাকে অবজ্ঞা’ করল বলেও মন্তব্য নাবিল আবু রুদেইনার।

“ইউএনআরডব্লিউএ-র স্কুল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও জরুরি সহায়তা কর্মসূচিকে অবিশ্বাস্যরকমের ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে যে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, আমরা তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছি,” টুইটারে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিস গানেসও।

১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনির সহায়তায় জাতিসংঘ এ ত্রাণ ও কাজ বিষয়ক সংস্থাটি গঠন করেছিল।

ইউএনআরডব্লিউএ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ নানা ধরনের সেবা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রই জাতিসংঘের এ সংস্থাটির একক বৃহত্তম দাতা।

২০১৬ সালেও মার্কিন প্রশাসন ইউএনআরডব্লিউএ-র জন্য ৩৭ কোটি ডলার ছাড় করেছিল; মধ্যপ্রাচ্যে সংস্থাটির ৩০ শতাংশ কার্যক্রমেও ছিল মার্কিন সহায়তা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের এ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার জন্য প্রতিশ্রুত কিস্তির ৬ কোটি ডলার ছাড় করলেও পর্যালোচনার কথা বলে বাকি সাড়ে ছয় কোটি ডলারের ছাড় আটকে দিয়েছিল।

তহবিল বন্ধে সিদ্ধান্ত হওয়ায় আটকে রাখা ওই অর্থ ইউএনআরডব্লিউএ-র কাছে যাচ্ছে না বলেই ধারণা বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার আগেই শুক্রবার জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেইকো মাস জাতিসংঘের এ ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থায় তার দেশ সাহায্যের পরিমাণ বাড়াবে বলে জানিয়েছিলেন।

ইউএনআরডব্লিউএ-র আর্থিক সংকট মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

“প্রতিষ্ঠানটির এ ক্ষতি, নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না এমন চেইন রিঅ্যাকশনের সূচনা করতে পারে,” ভাষ্য জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য