দণ্ডিত লুলার প্রার্থীতায় আপত্তি ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালতেরদুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছে দেশটির নির্বাচনী আদালত।

অক্টোবরের নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী লুলাই জিতবেন বলে জনমত জরিপগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। নির্বাচনী আদালত আপত্তি জানানোয় শ্রমিক ও নিম্নবিত্তদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এ রাজনীতিকের প্রেসিডেন্ট পদের ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ রুদ্ধ হল।

লুলার আইনজীবীরা আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ব্রাজিলের আইন অনুযায়ী, আপিল চললেও দণ্ডিত কোনো ব্যক্তির ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। যদিও নির্বাচনী আদালত চাইলে এর ব্যতিক্রম হওয়া অসম্ভব ছিল না।

সাত সদস্যের নির্বাচনী আদালতে শুক্রবার ৬-১ ভোটে লুলার প্রার্থীতার বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্ভাব্য এ প্রার্থীর ভোটে দাঁড়ানোয় আপত্তির কথা জানান।

পরে এক প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিলের ওয়ার্কার্স পার্টি (পিটি) ৭২ বছর বয়সী লুলার প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি দেয়। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ১২ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত লুলা চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই কারাগারে আছেন।

“আইনে এবং যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ব্রাজিল অনুমোদন দিয়েছে সেগুলো অনুযায়ী লুলার অধিকারের স্বীকৃতিতে আদালতে সব ধরনের আপিল আবেদন করবো আমরা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায়ও লুলার পক্ষে দাঁড়াবো আমরা,” বিবৃতিতে জানায় পিটি।

দুর্নীতির দায়ে ১২ বছরের দণ্ড উপেক্ষা করেই সাবেক ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী লুলাকে অক্টোবরের নির্বাচনে প্রার্থী বানানোর ঘোষণা দিয়েছিল ওয়ার্কার্স পার্টি।

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসা লুলা বলেছিলেন, নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ ঠেকাতেই তড়িঘড়ি দণ্ড ঘোষণা করেছিল ব্রাজিলের আদালত।

নিজে অংশ নিতে না পারলে সাও পাওলোর সাবেক মেয়র ফার্নান্দো হাদ্দাদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে পছন্দ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য