পেন্টাগনরাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনলে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের নিরাপত্তাবিষয়ক মার্কিন সহকারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রান্ডাল শ্রিভার। বুধবার (২৯ আগস্ট) তিনি বলেছেন, রাশিয়া থেকে অস্ত্র কিনলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে যে বিশেষ বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে ওয়াশিংটন। রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা খাতে লেনদেন করলে ওইসব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এ নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্র ভারত। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি আমদানির দিক দিয়েও বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দেশটি। ভারত ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে। তবে কিছু কিছু অস্ত্রের ক্ষেত্রে দেশটি এখনও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ পাল্লার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রসহ রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন করে অস্ত্র কিনছে ভারত। আর সেদিকে এখন নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার এক অনুষ্ঠানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের নিরাপত্তাবিষয়ক মার্কিন সহকারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রান্ডাল শ্রিভার বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় প্রদানকারী’ কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভারত যাই করুক না কেন দেশটিকে এর বাইরে রাখা হবে। তবে একে ভুল ধারনা বলে দাবি করেছেন শ্রিভার। তিনি বলেন, ‘ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনে তবে তা নিয়ে এখনও আমাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। আমি এভাবে বসে থাকতে পারি না এবং আপনাদের বলতে পারি না যে বাদ যাক, তাদেরকে আমরা ছাড় দেব।’

আগামী সপ্তাহে নয়া দিল্লিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হবে। আর তার আগেই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনা নিয়ে সাবধান করলেন শ্রিভার। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনাকে বিভিন্ন কারণে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘ভারতের জন্য বিকল্প খোঁজাকে আমরা প্রাধান্য দেব এবং দেখব ভারতের এসব প্রতিরক্ষা চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে আমরা অংশীদার হতে পারি কিনা।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য