নিকারাগুয়ার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগনিকারাগুয়া সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। বুধবার সংস্থাটির জেনেভার মানবাধিকার কার্যালয় এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশটির সরকার পরিস্থিতিকে ‘অন্ধদের দৃষ্টিতে’ পরিণত করেছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি রাইফেল সঙ্গে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

ওই প্রতিবেদনে গত ১৮ এপ্রিল থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনাবলি প্রত্যক্ষ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। এ প্রতিবেদনে পুলিশ বাহিনীর অসমর্থিত আচরণ, মানুষ হত্যা, নির্যাতনের ঘটনা এবং আটক কেন্দ্রগুলোতে যৌন সহিংসতা ও অস্পষ্ট আচরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান জেইদ রায়দ আল-হুসেন বিবৃতিতে বলেছেন, নিকারাগুয়াতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি নিপীড়ন ও প্রতিশোধ অব্যাহত আছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের আগামী মাসের বৈঠকে এ বিষয় উত্থাপন করা হবে। বৈঠকে নিকারাগুয়ায় খারাপ পরিস্থিতির বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত অথবা সত্য কমিশন গঠনের কথা বিবেচনা করা হবে। এছাড়া দেশটিতে ‘দমন-পীড়নের প্রভাব’ এবং ‘ব্যাপক সন্ত্রাসী পরিস্থিতি’র কারণে বিক্ষোভকারীদের নীরব অবস্থানের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা যায়।

এ প্রতিবেদনসূত্রে আরও জানা যায়, আটককৃতদের বন্দুক ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া মুষ্টি ও টিউব দিয়ে মারধর করা এবং গোঁফ উপড়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেদনে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণসহ যৌন নির্যাতনের হুমকির ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া পুরুষ বন্দিদের ধর্ষণ এবং রাইফেল ও অন্য বস্তু দিয়ে ধর্ষণের কথা বলা হয়েছে।-রয়টার্স।

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট সাবেক মার্কসবাদী গেরিলা নেতা ড্যানিয়েল ওতের্গার দুর্নীতির প্রতিবাদে ও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি এ সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী চলমান এ সহিংসতায় তিনশ মানুষের মৃত্যু এবং দুই হাজার মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে গত এপ্রিল মাসে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন স্যান্ডিনস্টা পার্টির সমর্থকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করতে ‘শক বাহিনী’ বা ‘ঘোড়দৌড় বাহিনী’ গড়ে তোলে। অবশ্য এসব বাহিনী সম্পর্কে ওর্তেগা গত ২০ জুলাই টিভি চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিশেষ নিরাপত্তার কারণে ও বিশেষ লক্ষ্যে গুপ্তচরের কাজে এসব বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য