ফুলবাড়িতে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলনদিনাজপুর সংবাদাতাঃ ফুলবাড়ি থানা পুলিশ ও প্রশাসন অপরাধী বান্ধব হওয়ায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ মামলার আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছেনা। ভুয়া দলিল বাতিল, আসামীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন মন্দিরের পুরোহিত শ্রী নারায়ণ চক্রবর্ত্তী।

মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করেছেন ফুলবাড়ি উপজেলার পূর্ব বাজিতপুর (আর্দশ গ্রামস্থ) শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরের পুরোহিত শ্রী নারায়ণ চক্রবত্তীসহ উপস্থিত অন্যরা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উল্লেখিত গ্রামের ১নং খাষ খতিয়ান ভুক্ত ২১০ নং দাগের ৮ দশমিক ৫০ একর জমি ৩২ জন নাগরিককে প্রদান করা হয়। এরমধ্যে ৯টি হিন্দু সংখ্যালুঘু পরিবারও রয়েছে।

তারা জানান, সরকারী ভাবে বরাদ্ধ দেয়ার সময় ৩২ জনের মধ্যে শুধুমাত্র ৪জনকে বাড়িসহ ৭০ শতাংশ জমি দেয়া হয়েছে আর অন্যদের মাঝে ৮ শতাংশ করে জমি কবুলিয়ত মুলে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক বসবাসের জন্যে ঈদগা মাঠের জন্যে ৫০ শতাংশ,কমিউনিটি সেন্টারসহ মসজিদের জন্যে ৫০ শতাংশ এবং প্রাইমারী স্কুল ৩৩ শতাংশ,মন্দির ১৫ শতাংশ এবং ভুমি অফিসের জন্যে ৫০ শতাংশ জমির দখল দেয়া আছে। এবাদেও এক একর জমির পুকুর পাড় রয়েছে।

নারায়ণ চক্রবর্ত্তী অভিযোগ করে বলেন,মন্দিরের জমি দখল নিতে স্থানীয় ভুমিদস্যু মজিবর ও তার বাহিনীর লেলিয়ে দেয়া দূর্বৃত্তরা গত ২০ জুলাই রাত্রীতে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে মন্দিরটি পুড়িয়ে দেয়। এব্যাপারে ফুলবাড়ি থানায় নাম উল্লেখসহ অভিযোগ করলেও আসামীদের রক্ষার উদ্দেশ্যে ফুলবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নেননি বরঞ্চ তিনি নিজেই অজ্ঞাত নামা আসামী দেখিয়ে নতুন এজাহার তৈরী করে তাতে বাদীর স্বাক্ষর নিয়েছেন এবং সেই মামলার রেকর্ড করেছেন। মামলার বাদী নারায়ণ বলেন,ওসি চক্রান্তমুলক যে মামলা রেকর্ড করেছেন তাতে আমার স্বাক্ষর থাকলেও সম্মতি নেই কারন আমাকে ভুল বুজিয়ে তিনি স্বাক্ষর নিয়েছেন।

তিনি জানান, ভুমিদস্যু মজিবর-গাফ্ফার গং জমির জন্যেই মন্দিরে আগুন লাগিয়েছে এবং ৭নং শিবনগর ইউনিয়ন ভুমি তহশিলদার মো: আব্দুল মোতালেব ও ফুলবাড়ি থানার এসিল্যান্ড যোগসাজোশে মজিবরের দুই পুত্র মো: মিজু এবং মো: ফিজু‘র নামে ২টি কবুলিয়ত দলিল তৈরী করে দেয়। যে কারনে মন্দিরে আগুন লাগানোর ৫/৬দিন পূর্বে ফুলবাড়ি থানার এসিল্যান্ড এলাকায় গিয়ে মজিবরকে জমির দখল দেয়ার জন্যে এলাকাবাসীর প্রতি চাপ দিয়ে এসেছেন।

মন্দিরের জমি সংক্রান্ত বিরোধ বিষয়ে ১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিল ততকালিন সহকারী কমিশনার ভুমি একটি প্রতিবেদন দিনাজপুর ১ম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রেরন করেছিলেন যাতে সর্ব বিষয়ের উল্লেখ ছিলো।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চিত্ত রঞ্জন বলেন, ভুমিদস্যুরা এতদিন সংখ্যালুঘু পরিবারদের তাড়িয়ে জায়গা জমি দখলের চেষ্টা করছিলো এখন মন্দিরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ভুমি দখলের পায়তারা করছে,এধরনের মানুষদের কঠোর শাস্তির দাবী করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভুয়া দলিল নং ৪১৬৫/১৬ এবং ৪১৬৬/১৬ বাতিল ও ভুয়া দলিল সৃষ্টিকারী তহসিলদারসহ অপরাপর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবী জানিয়ে ইতিপূর্বেই জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লীষ্ট সকল বিভাগেই আবেদন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেরনে উপস্থিত ছিলেন,চিত্ত রঞ্জন,আব্দুস সাত্তার,মো: কাছাব উদ্দীন,কমলেশ চক্রবর্ত্তী ও মানবাধিকার কর্মী শ্যামল ব্যার্নাজী প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য