একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বক্করের স্বপ্ন পূরণআজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প হতদরিদ্রদের স্বপ্ন পূরণ করছে। প্রকল্পের আওতায় মানুষকে ভিটেসহ ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। স্বাবলম্বী করে তুলতে পরিশ্রমীদের সহজ শর্তে দেওয়া হচ্ছে ঋণ।

গ্রামের বেকার,গরীব, অসহায়, দরিদ্রদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্দ্যোগে একটি বাড়ি একটি খামার। আর সেই প্রকল্পের টাকায় স্বপ্ন দেখাচ্ছেন লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক।

সে হোটেল ব্যবসার পাশাপাশি আরও কিভাবে বৃহৎভাবে স্বাবলম্বী নিজেকে হতে পারি সেই পরিকল্পনা তার মাথায় ঢুকে পড়ল। প্রথমে হোটেল ব্যবসার কিছু অর্থ দিয়ে বাবার রেখে যাওয়া কিছু সম্পদ ও নিজের ক্রয় করা পনে ২ একর জমিতে লিচু ও মসলা জাতীয় ফসলের বাগান তৈরি করলেন।

সেই জমিতে আবার একটি বাড়ী একটি খামার আদিতমারী প্রকল্প অফিস থেকে ক্ষুদ্র ঋন নিয়ে গরু মোটা-তাজাকরন, টার্কি , ভেড়া, গড, রাম ছাগল, কোয়েল পাখি, কবুতর ও হাস-মুরগিসহ বিভিন্ন প্রজাতির একটি বৃহৎ খামার ও একটি বিনোদনের পার্ক তৈরি এলাকায় বেশ সারা জোগিয়েছেন।

কোথাও দেখা যায় গরুর,ছাগল,ভেড়ার ডাক, মুরগীর বাচ্চার কিচিমিচি, হাসের কথ কথ, কবুতরের বাক বাকুম ডাক, খরগোশের লাফি লাফি আবার দেখা যায় মানুষ বসার জন্য তৈরি করেছেন লিচু গাছের গোড়া পাকাকরন এ জন্য প্রকৃতির ছায়াগেড়া পরিবেশ।

প্রত্যান্তঞ্চলে এরকম একটি ব্যতিক্রমধর্মী বৃহৎ খামার তৈরি করে বক্কর একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যা দেখে মনে হবে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। ববক্কর যেভাবে খামারের দিকে মনযোগ দিয়ে এর পরিচালানা করছেন ভবিষতে জেলার মধ্যে একটি বৃহৎ খামারে পরিণত হবে বলে অনেকের ধারনা। আর এই চিত্র দেখতে আসা এলাকার শত,শত মানুষ বিনোদনের জন্য ভীড় জমাচ্ছেন। এখন বক্কর সারাদিন ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন। এই এলাকার লোক গরীব তারা দিন আনে দিন খায়। এলাকার অনেক বেকার শ্রমিকরা এই খামারে কাজ করে সংসার চালাচ্ছে।

উপজেলা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প অফিস সূত্রে জানাগেছে,এ প্রকল্পের আওতায় ১৫৪ সমিতির মধ্যে ৬০ জন করে ৮৫০ জন সুবিধাভোগী সদস্য ক্ষুদ্র ঋনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর টাকায় সুবিধা নিয়ে গরু-ছাগল পালন, মৎস্য চাষসহ নানা রকম কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। আর প্রত্যকটি সমিতিতে সভাপতি ও সম্পাদক রয়েছে তারা সদস্যদের পরিচালনা করে থাকেন। তার মধ্যে এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে বেশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন হাজিগঞ্জ এলাকার বক্কর ও ভেলাবাড়ী এলাকার মানিক মিয়া দুগ্ধ খামার দিয়ে বাদশা মিয়া নামের একজন শ্রমিক জানান, আগে আমার সংসার চলত না এখন এই খামারে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে আমার সংসার চলছে।

খামারের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমার খামারের সহযোগিতার পিছনে একমাত্র উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সহযোগীতার দিয়েছেন একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প। যে সামান্য ক্ষুদ্র ঋন দিয়ে সহযোগিতা করে সেটা অতি অল্প।তাই বড় ধরনের ঋন পেলে আমার খামারকে আর ও বড় আকারে তৈরি করে এলাকার বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারব। আর বর্তমানে খামারে যে সমস্ত প্রাণী ও হাস-মুরগির আছে যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করে গড়ে তুলতে পারি ভবিষতে অনেক মুনাফা আসবে বলে আশাবাদী এজন্য সরকারের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দৃষ্টি কামনা করেন।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সমন্বয়কারী ফরহাদ আলী রানা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি বাড়ি একটি খামার সঠিকভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর টাকায় উপকারভোগিরা গ্রামের গ্রামের বেকার,গরীব, অসহায়, দরিদ্ররা ধীরে,ধীরে স্বাবলম্বী হচ্ছে এ বিষয়ে আমরা মনিটারিং করে যাচ্ছি। প্রাথমিক সদস্যদেরকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ লক্ষ্য টাকা ঋন পরিমান হলে মানুষের আরও উন্নয়ন ও খামারে সংখ্যা বৃদ্ধি হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য