গরু পালন করে দিশাহারা দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতাবাসী আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ইউনিয়ন বাসী ভারতীয় শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে যুক্ত হওয়া দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহলবাসীর প্রধান সমস্যা ভারতীয় গরুর কারনে পালিত গরু বিক্রয় করতে পারছেনা।

জানা গেছে, তিনবিঘা করিডোর নামক স্বপ্নের রাস্তাটি দিয়ে চলাফেরার অনুমতি পেলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির অনুযায়ী তিন বিঘা করিডোরের নিয়ন্ত্রণ ভারতের কাছে থাকায় তাদের আরোপ করা কিছু শর্ত এখনো মেনে চলতে হয় ছিটমহলবাসীদের।

ভারত থেকে চোরাই পথে আসা গরুর কারনে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা বাসী ঈদুল আযাহা উপলক্ষ্যে নিজের পালিত গরু বিক্রয় করতে পারছে না। দহগ্রাম বাসী স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পিছে ঘুরেও একটি গরু বিক্রয় করার সিরিয়াল মেলে না। তাই দিনে পর দিন ভোগান্তিতে পরেছে ওই এলাকার বসবাসরত সাধারন কৃষকরা।

বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, ভারতের আরোপিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সাপ্তাহে ৬০টি গরু তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পার করার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা বাসী প্রতি সাপ্তাহে শনিবার ও বুধবার গরু পারা পারে অনুমতি প্রদান করে ভারতীয় বিএসএফ। আর ৬০টি গরুর বিক্রয়ের সিরিয়াল প্রদান করেন স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যান ও আঙ্গোরপোতা বিজিবি।

সরেজমিনে গেলে গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, রাতের আধারে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তা স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য মিলে বিজিবি সদস্যদেরকে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে এসব গরুকে বৈধতা দিয়ে সিরিয়াল প্রদান করেন। ভারতীয় গরুর প্রবেশের ফলে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা বাসী নিজের পালিত গরু বিক্রয় করতে পাছেনা।

দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আ: বারেক বলেন, মেম্বরের পিছে কয়েক মাস ঘুরেও কষ্ট করে পোষা গরু বিক্রির জন্য সিরিয়াল পাওয়া যায়না। অথচ টাকা বেশি দিলেই ভারতের গরুর সিরিয়াল পাওয়া যায়।

দহগ্রাম নতুন বাজার এলাকার ফাতেমা বেগম বলেন,আমার স্বামী তহিদুল খুবেই অসুস্থ্য গরু বিক্রয় করে চিকিৎসা করার কথা কিন্তু মেম্বর, চেয়ারম্যানের কাছে শত শত বার হাত ধরলেও একটিও গরুর সিরিয়াল দেয়নি। চিকিৎসার অভাবে কি আমার স্বামী মরবে?

ওই এলাকার কৃষক ওমর ফারুক বলেন, মেম্বর ও চেয়ারম্যানরা প্রতি ভারতীয় গরুর সিরিয়াল ১০ থেকে ১৬ হাজার টাকা বিক্রয় করছেন। আর এই ঈদে লক্ষ লক্ষ টাকা কামাচ্ছেন তারা।

দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক, আরিফ মো: মাজেদুল হক জানান,গত বুধবার দহগ্রাম গুচ্ছগ্রাম বাজারে ভারতীয় গরু ঢেকাতে শতশত মানুষ রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ করে। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় গরু আর দহগ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এখন থেকে চেয়ারম্যান কে স্থানীয় গরুর সিলিয়াল দিতে হবে।

আঙ্গোরপোতা ৬১ বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডা বেলায়েদ হোসেন বলেন, বাসিন্দাদের নিবন্ধন করা গরুর তালিকা ও খাতার দেখে গরু বিক্রয়ের অনুমতি দিয়ে থাকি। ভারতীয় গরু প্রবেশের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন,ভারতীয় কোন গরু দহগ্রামে প্রবেশ করে না। কোন গরুর সিরিয়াল টাকায় বিক্রয় হয় না এটা মিথ্যা। এক বিজিবির সদস্যর মৃত্যুর পর থেকে ভারতীয় কোন গরু দহগ্রামে প্রবেশ করে না।

পাটগ্রাম থানার নির্বাহী অফিসার নুরকুতুবল আলম বলেন, দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা বাসী গরুর বিক্রি করতে পারছেনা এমন অভিযোগ পাইনি । অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য