স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সেবা না পেয়ে প্রসূতির অটো-চার্জারে সন্তান প্রসবআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রত্যাশিত চিকিৎসা সেবা পেতে ব্যর্থ এক মুমূর্ষু প্রসূতির অবশেষে অটো-চার্জারেই সন্তান প্রসব করেছেন। হৃদয় বিদারক এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিনগত ভোর রাতে।

জানা গেছে, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউপির আন্দুয়া গ্রামের প্রসূতি দম্পতির গৃহকর্তা অটো-চার্জার চালক হেহেদুল ইসলাম তার স্ত্রী রুমানা বেগম (২৫) সম্ভাব্য সন্তান প্রসব বেদনায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। প্রসব বেদনায় গুরুতর হয়ে পড়লে অবস্থা বে-গতিক দেখে ভোর রাতে ওই সময় তার নিজস্ব অটো-চার্জার যোগে স্ত্রীকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

এসময় রাত সাড়ে ৩ টার দিকে বিপদগ্রস্ত কাতর স্ত্রীর অসুস্থতায় বিচলিত স্বামী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কিন্তু জরুরী বিভাগে ওই সময় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের উদাসিনতায় চিকিৎসা সেবা পেতে ব্যর্থ হন। দায়িত্বরতরা কোন গুরুত্ব না দিয়ে এবং প্রাথমিক কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং প্রসূতিকে কোন ক্লিনিকে নেয়ার কথা বলে বিষয়টি এরিয়ে যান।

মরনাপন্ন প্রসূতির নিরুপায় স্বামীসহ পরিবারের অন্যরা দ্রুত হাসপাতাল থেকে উপজেলা সদর অভিমুখে আসার পথে স্থানীয় গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রসূতি প্রসব বেদনায় ছটপটসহ কাতর হয়ে পড়েন। এক পর্যায় রাত প্রায় ৪টার দিকে অটো-চার্জার অভ্যন্তরেই ফুঁটফুটে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন।
উল্লেখ্য কোন জবাবদিহীতা না থাকায় ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

একের পর এক এমন দায়িত্বহীনতার কবলে এলাকার ভূক্তভোগি মহল হাসপাতালের উপর কোন ভরসা রাখতে পারছেন না। ভূক্তভোগি মহল জানান চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি অর্থই হচ্ছে মৃত্যুমুখে ধাবিত হওয়া। এখানে পৌঁছার আগেই রেফার্ড শব্দটি মনে হয় অনেক আগেই লিখে রাখা হয়ে থাকে।

ফলে উপজেলা এলাকার সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠি হাসপাতালটির সার্বিক চিকিৎসা সেবার প্রতি আস্থা হারাতে বসেছে। এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মহল এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য