অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিয়েতে নাচলেন পুতিনঅস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন কেনাইসেলের বিয়েতে তার হাত ধরে নেচেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

দুই মাস আগে পাওয়া আমন্ত্রণ রক্ষা করতে শনিবার তিনি জার্মানি যাওয়ার পথে অস্ট্রিয়ার স্টেরিয়াতে নেমে কেনাইসেলের বিয়েতে যোগ দেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের একাট্টা অবস্থানকে পাশ কাটিয়ে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিরোধীদের অনেকেই তাকে পদত্যাগেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বার্লিনের বাইরে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে বৈঠকের আগে যাত্রাবিরতিতে অস্ট্রিয়া নেমে ফুলের তোড়া নিয়ে গাড়িতে করে পুতিন বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছান; নবদম্পতিকে সান্ধ্য প্রেমসংগীত শোনাতে একদল কসাক বাদ্যযন্ত্রীও তার সঙ্গে ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

বিভিন্ন ছবিতে স্টেরিয়া প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি আঙুরক্ষেতে সাদা ও ক্রিম রংয়ের লম্বা ‘টিরন্ডল’ পোশাক পরিহিত ৫৩ বছর বয়সী হাস্যজ্জ্বল কেনাইসেলকে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নাচতে ও কথা বলতে দেখা গেছে।

এ আঙুরক্ষেতেই কেনাইসেল ও উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ওলফগ্যাং মাইলিঙ্গারের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ছবিগুলোতে পুতিনকে হাস্যোজ্জ্বলভাবে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনতে দেখা গেছে।

বিয়েতে রুশ প্রেসিডেন্ট জার্মান ভাষায় টোস্ট করেন বলেও জানিয়েছে ক্রেমলিন।

ইউক্রেইনের ক্রিমিয়া দখল ও অন্যান্য বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই পুতিনকে কেনাইসেলের আমন্ত্রণ মস্কো ও ভিয়েনার অনেককেই বিস্মিত করেছিল।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বহুভাষী, স্বতন্ত্র হিসেবে পার্লামেন্টে নির্বাচিত কেনাইসেলের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের বন্ধুত্ব ছিল, এমন কোনো তথ্য না মিললেও পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়ার সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ক্ষমতাসীন কট্টর ডানপন্থি দল ফ্রিডম পার্টির (এফপিও) ‘সহযোগিতা চুক্তি’ আছে।

এফপিও নেতৃত্বাধীন সরকারেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন কেনাইসেল। দলটির নেতা ও অস্ট্রিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর হেইন্স-ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাখেও এর আগে রাশিয়ার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছিলেন। মস্কোর ওপর থেকে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান ছিল তার।

বিয়েতে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোয় নিয়েসলের প্রশংসাও করেছেন গত বছর ক্ষমতাসীন জোট সরকারে যোগ দেওয়া স্ট্রাখে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ব্রিজ বিল্ডার’ অ্যাখ্যা দিয়ে শনিবার এ ভাইস চ্যান্সেলর নব দম্পতিকে অভিনন্দন জানান ও তাদের সৌভাগ্য কামনা করেন।

পুতিনের সফরের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অস্ট্রিয়ার ‘অমূল্য প্রচার’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিয়েতে অংশ নেওয়ার পর পুতিন শনিবারই সিরিয়া, ইউক্রেইন ও জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়ে মেরকেলের সঙ্গে কথা বলতে জার্মানিতে উড়ে যান।

তার এবারের স্টেরিয়া সফর ছিল ‘একেবারেই ব্যক্তিগত’বলে জানিয়েছেন পুতিন।

“চমৎকার এক সফর ছিল এটি, একেবারেই ব্যক্তিগত সফর,” মেরকেলের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন পুতিন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকলেও অস্ট্রিয়ার সঙ্গে অন্য দেশগুলোর তুলনায় রাশিয়ার সম্পর্ক বেশ ভালো।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর ইউরোপে প্রথম সফরে জুনে অস্ট্রিয়াতেই গিয়েছিলেন পুতিন।

যুক্তরাজ্যে পক্ষত্যাগী রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগে ক্রেমলিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইইউর অন্যান্য দেশ রুশ কূটনীতিক বহিস্কার করলেও ভিয়েনা সে পথে হাঁটেনি।

মস্কো অবশ্য শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য