ইন্দোনেশিয়ার লম্বোক দ্বীপে আবারও ভূমিকম্পদুই সপ্তাহের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লম্বক দ্বীপে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রবিবার (১৯ আগস্ট) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৩। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের (ইউএসজিএস) তথ্য মতে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্ব লম্বকের বেলান্টিং শহরের পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে মাটির ৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

সর্বশেষ এই ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষনিক কোনও খবর পাওয়া যায়নি। গত ৫ আগস্ট (রবিবার) দ্বীপটিতে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার এক ভূমিকম্পে চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ।

ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল রিং অব ফায়ার লাইনে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঘটনা বেশি। এই অঞ্চলে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান রয়েছে।

সর্বশেষ ভূমিকম্প সম্পর্কে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক মুখপাত্র সুতপ্পো পুরো নুগরোহো স্থানীয় মেট্রো টিভিকে বলেছেন, ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। আমরা এখনও অনুসন্ধান চালাচ্ছি। তিনি জানান, ভূমিকম্পের কারণে জাতীয় একটি পার্কে ভূমিধসের খবর পেয়েছেন তারা। গত জুলাইতে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে ওই পার্কে কয়েক শত হাইকার (পার্বত্য এলাকায় হেঁটে অভিযান চালনাকারী) আটকা পড়েছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন সর্বশেষ ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে পূর্ব লম্বকে। ওই এলাকার বাসিন্দা আগুস সালিম বলেন, রবিবারের ভূমিকম্পের সময় আমি উদ্বাস্তুদের সাহায্য পৌঁছে দিতে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ একটি বিদ্যুতের খুঁটি নড়তে দেখে বুঝলাম ভূমিকম্প। মানুষ চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে দিয়ে সবাই রাস্তায় দৌঁড়ে বেরিয়ে আসে।

রবিবারের এই কম্পন লম্বক দ্বীপের রাজধানী মাতারাম ও পাশ্ববর্তী অবকাশ দ্বীপ বালিতেও অনুভব করা গেছে।

গত ৫ আগস্টের ভূমিকম্পের পর গত দুই সপ্তাহে আরও বেশ কয়েকবার লম্বকে আফটার শক অনুভূত হয়েছে। ওই ভূমিকম্পের পর নতুন ভূমিকম্পের আশায় হাজার হাজার পর্যটক লম্বক ছেড়ে গেছে। ভীড় সামাল দিতে এয়ারলাইন্সগুলো অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করে। পাশের বালি দ্বীপ থেকে অতিরিক্ত নৌযান চালানো হয়।

২০০৪ সালে ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামিতে ১৩টি দেশের ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। তার মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই নিহত হয় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য