কেরালার ইদুক্কিতে ধ্বংসস্তুপের নিচে এখনও অনেক মরদেহভারতের কেরালা রাজ্যের চলমান বন্যায় সেখানকার ইদুক্কি জেলার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। স্থানীয় পার্লামেন্ট সদস্য জইস জর্জ বলেছেন, বন্যার কারণে পুরো জেলা প্রশাসন অচল হয়ে পড়ায় ভূমিধসে আটকে পড়ে থাকা অনেক মৃতদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। অনেক মানুষ পার্বত্য এলাকার ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, জেলার ত্রাণ শিবিরগুলো চাল, সবজি, কাপড় ও নারীদের স্যানিটারি ন্যাপকিনের জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা মুন্নার ও থেক্কাডি ইদুক্কি জেলায় অবস্থিত। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁধও রয়েছে। পাশ্ববর্তী কুলামাভু ও চেরুথনি এলাকাতেও আরও দুটো বাঁধ রয়েছে। বিগত ২৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই মাসে এসব বাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো জেলা।

ইদুক্তি জেলার যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়া সম্পর্কে সেখানকার এমপি জইস জর্জ বলেন, শুধুমাত্র পুলিশের কাছে থাকা অল্প কয়েকটি ওয়ারলেস সেট দিয়ে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তামিল নাড়ু শাখা আমাদের ওষুধ দিয়ে সাহায্য করছে। কিন্তু চারদিন পরেও অনেক এলাকায় পৌঁছাতে না পারার কারণে আমাদের তাৎক্ষনিক সহায়তা দরকার।

অনেকেই আছেন যাদের জরুরী চিকিৎসা সহায়তা দরকার, অনেক এলাকার রাস্তা পরিষ্কার করতে হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ভূমিধসের শিকার অনেকের দেহ এখনও আটকা পড়ে আছে তাদের উদ্ধার করা প্রয়োজন।’ জইস জর্জ জানান শুক্রবার রাতে জেলার উপ্পোথোডু এলাকায় ভূমিধসে একটি পরিবারের সবাই নিহত হলেও তাদের মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।

জেলার অন্য বড় শহরগুলোতে পৌঁছাতে না পারায় বর্তমানে কাত্তাপ্পানাতেই বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে থেনি ও কামবাম হয়ে তামিল নাড়ু থেকে আসা ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বন্যা শুরুর পর গত ৮ আগস্ট থেকে এপর্যন্ত কেরালা রাজ্যে ১৭৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাজ্যটির সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইদুক্কি জেলা। সেখানকার সরকারি কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা বলেছেন, গত বুধবার থেকে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে ইদুক্কি।

এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে আমরা কয়েক কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে পারছি না। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের শুধুমাত্র নিজ নিজ এলাকাতেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে পারছে। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে সেই কাজও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ অনেক বাসিন্দাকে জরুরিভাবে জেলার বাইরে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য