অবিরাম বৃষ্টিপাতে ভারতের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে ভূমিধস ও অন্যান্য ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে শত শত লোক আটকা পড়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা, খবর এনডিটিভির।

ভূমিধসে মান্ডি জেলায় তিন জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে সোলান জেলার পারবানুর কাছে কৌশল্য নদীর বানে এক বালক ভেসে গেছে।

সোলানের কান্দাঘাট এলাকার চাকলা গ্রামে আরেকটি ভূমিধসের ঘটনায় পাঁচ জন চাপা পড়েছেন বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। এদের মধ্যে এক জন মারা গেছেন। বাকিদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত আছে।

মান্ডি শহরের কাছে মানালি-চন্ডিগড় মহাসড়ক-২১ এ গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। একইরকমভাবে সোলানের জাবলি শহরের কাছে চন্ডিগড়-সিমলা জাতীয় মহাসড়ক-৫ এও গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ভূমিধসে মান্ডি-পাঠানকোট, ছাম্বা-পাঠানকোট এবং সিমলা-নাহন জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।

হিন্দুস্তান-তিব্বত সড়কের বড় একটি অংশের কয়েকটি জায়গায় ভূমিধসের পর কিন্নৌর জেলায়ও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিন্নৌর, সিমলা, ছাম্বা, মান্ডি, কুলু ও সিরমৌর জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার সড়কগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হিমাচলে খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করায় পূর্ব সতর্কতা হিসেবে সোমবার সিমলা, সোলান, কুলু, হামিরপুর, কাংড়া, কিন্নৌর ও মান্ডি জেলার সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিমলার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রোববার থেকে রাজ্যটির অধিকাংশ এলাকাজুড়ে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হচ্ছে।

সিরমৌরের পাওনটা সাহিব এলাকায় ২৪ ঘন্টায় সবচেয়ে বেশি ২৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। হামিরপুরের সুজানপুর তিরা শহরে ২৩৮ মিলিমিটার, মান্ডির নেহরি শহরে ২৩৫ মিলিমিটার ও পালামপুর শহরে ২১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পাশাপাশি রাজ্যের রাজধানী সিমলায় ১৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রাজ্যটিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়া পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য