পানির অভাবে আমন চাষে বিপাকে চাষিরা জমিতে পানি ছেকে হালচাষকুড়িগ্রামের নাগেশ^রীতে বৃষ্টি না থাকায় চরম পানি সঙ্কটে রোপা আমন চাষিরা। ফলে রোপা আমন চাষে বিপাকে পড়েছে তারা। ‘আষাঢ়ে বাদল নামে পানি থৈ থৈ’ কবির এই কবিতার চরণ এখন যেন মিথ্যে হয়ে যাচ্ছে। আষাঢ় চলে গেছে। শ্রাবণও শেষের পথে। কিন্তু দেখা নেই বৃষ্টির। কোনো খাল-বিল কিংবা নদী-নালা এখন পানিতে থৈ থৈ করে না। ভরা বর্ষায়ও প্রবল খরায় চাষাবাদে ব্যহত হচ্ছে।

এ যেনো চৈত্রের তাপদাহে ইরি-বোরোর খরা মৌসুম। নিরূপায় হয়ে শ্যালো মেশিন কিংবা গভির ও অগিভির নলকুপের মাধ্যমেই জমিতে পানি ভরে চাষাবাদ করছে। এমনকী যেসব জমিতি সেচের মাধ্যমে পানি ভরানোর ব্যবস্থা নেই সেসব জমিতে ডোবা, খাল, পুকুর কিংবা নদী থেকে পানি ছেকে পানি ভরছে কৃষকরা। এতে যেমন কৃষকদের দ্বিগুণ কষ্ট হচ্ছে তেমনই খরচও পড়ছে দ্বিগুণ।

ধিকাংশ কৃষকই এভাবে জমি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকী অনেকেই জমি খালিও রেখেছেন। এমন দৃশ্যও চোখে পড়েছে অনেক এলাকায়। এমন অবস্থা চলতে থাকলে চলতি মৌসুমেও রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না আর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে দেশে খাদ্য ঘাটতির আসঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া এলাকার কৃষক আবুল হোসেন (৬১), এনামুল হক (৩৮), নুরল আমিন (৪২) জানায় তারা প্রায় ১ একর জমিতে নিচু জমি থেকে পানি ছেকে হালচাষ করেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তেলিয়ানরি পাড় এলাকার কৃষক আবু হানিফ (৬৫) বালতি দিয়ে পানি ছেকে আমনের জমি তৈরি করছেন।

তিনি জানায়, সেচের ব্যবস্থা না থাকায় বিকল্প হিসেবে বাধ্য হয়ে নিজেই বালতি দিয়ে পানি ছেকে জমিতে দিচ্ছি। রিয়াজুল ইসলাম (২৫), আপেল মাহমুদ (২৭) জানায়, আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও কোনো বৃষ্টি নেই। মাঝে মাঝে ছিপছাপ বৃষ্টি হলেও এসব বৃষ্টিতে কোনো কাজ হয়নি। তাই সেচ পাম্প ও শ্যালো মেশিনে পানি দিয়ে আমনের চারা রোপন করেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে অনাবৃষ্টির কারণে আমরা কৃষকদেরকে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপনের পরামর্শ দিয়েছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য