ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ বৃষ্টি ও লাবনী নামের দুই কিশোরীমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পূর্ব নারগুণ (শাপলা আবাসন) এর বৃষ্টি (১৩) ও লাবনী (১৫) নামের দুই কিশোরী ৫ দিন ধরে নিখোঁজ। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি।

বৃষ্টি পূর্ব নারগুণ (শাপলা আবাসন) এর অটো রিক্সা চালক, রফিকুল ইসলামের মেয়ে ও লাবনী একই গ্রামের মোকসেদ আলীর মেয়ে। বৃষ্টি ঢোলোডাঙ্গী মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

বৃষ্টির পিতা রফিকুর ইসলাম জানান, গত বুধবার (৮ আগস্ট) ১৮ইং বিকাল ষাড়ে ৫ টায় আমার বাড়ির পূর্ব পার্শ্বের বাড়ির মোকসেদ আলীর মেয়ে লাবনী কাউকে কিছু না বলে সে আমার মেয়ে বৃষ্টিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজা খুজি করতে থাকলে গ্রামের মতিউর রহমান (৫৬) আমাকে জানায় যে, আমি আপনার মেয়ে ও লাবনীকে বড় খোচাবাড়ি হাটে দেখেছি।

একথা শোনার পরে আমি সহ আমার অনেক লোকজন বড় খোচাবাড়ি হাটের আশে পাশে এবং বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজা খুজি করি। কিন্তু তাদের দুইজনের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এক পর্যায়ে ঢাকায় লাবনীর পিতা-চাচার সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, বৃষ্টি ও লাবনী তাদের কাছেও যায়নি।

লাবনীর কাছে যে মোবাইলাটি ছিলো তাও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরের দিন লাবনীর পিতা মোকসেদ আলীর সাথে ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, বৃষ্টিকে আমার মেয়ে নিয়ে আসেনি। ও লাবনী আমার কাছেও আসেনি। আমার মেয়ে লাবনী একাই, সে নাকি একটা ছেলেকে নিয়ে পালিয়েছে। কিন্তু আপনার মেয়ে বৃষ্টিকে, সে সাথে নিয়ে যায়নি বলে লাবনী তাদের জানান।

লাবনীর চাচা মানুষের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন যে, লাবনী যে ছেলের কথা বলেছিল, আসলে সেই ছেলের সাথে লাবনী যায়নি।

লাবনী কোথায় আছে সঠিক তর্থ্য পাওয়া যাচ্ছে না কোনভাবে।

এবিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, যে বুধবার বিকেলে বৃষ্টি ও লাবনীকে ব্যাগ নিয়ে একসাথে যেতে দেখেছে গ্রামের অনেকে।

গ্রামের মতিউর রহমান জানান, বুধবার বিকেলের দিকে বড় খোচাবাড়িতে বৃষ্টি ও লাবনীকে একসাথে দেখেন। তারা পালিয়ে যাচ্ছে তা তিনি উপলব্ধি করতে পারেনি। একই গ্রামের রুমকি ও লাইলি নামের দুইটি মেয়ে বৃষ্টি ও লাবনীর ব্যাগ গুলি এগিয়ে দিয়ে আসে তাদের।

বৃষ্টির পিতা জানান, লাবনী দীর্ঘ দিন ঢাকায় ছিলো তার পিতা-মাতার সাথে। কিছুদিন হলো সে গ্রামে এসেছে। এখানে আসে সে আমার মেয়ের সাথে কি যে, পরামর্শ করে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গেছে।

নিখোঁজ বৃষ্টির বর্ণনা: গায়ের রং শ্যামলা, মুখ মন্ডল-লম্বা গোলাকার, মাথার চুল: লম্বা, উচ্চাতা ৫ ফিট, হাত, পা, কান, মুখ, দাঁত স্বাভাবিক কিন্তু বাম চোখে সিমিত চিকন ভাব আছে। পরিধানে ছিলো লালছিটের পায়জামা কামিজ এবং কালো বরখা। বৃষ্টির যে ছবিটি তা প্রায় দুই বছর আগের।

এবিষয়ে বৃষ্টির পিতা ঠাকরগাঁও সদার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। জিডি নং ৪৩২।

বৃষ্টি ও লাবনীর যে কোন একজনের বা দুই জনের-ই কোনো প্রকার খোঁজ খবর, কোনো স্বহৃদয়বান ব্যক্তি পেলে তাৎক্ষনিক ভাবে যোগাযোগ করে তাদের খুঁজে পেতে সাহায্যে করুন: ০১৭৫১১৮৪৭৮৬ বা ০১৭১৭-৭১৬৬৩৭।

তাদের খুঁজে পেতে সকলের কাছে সাহয্যে ও সহযোগিতা কামনা করেছেন বৃষ্টির পিতা রফিকুল ইসলাম। একজন পিতা মাতাই জানে সন্তান হাড়ানোর বেদোনা। তাই সকলে তাদের খুঁজে বের করতে সাহায্যে করুন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য